সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি খাতের সংকট পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতার ফল
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 8
পূর্বের সরকারের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাই দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেছেন পাট, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বুধবার (৫ আগস্ট) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি খাত এখনও আমদানিনির্ভর। গ্যাসের চাহিদা পূরণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে জনজীবনে সাময়িক অসুবিধা হলেও বৃহত্তর স্বার্থে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। দেশের অগ্রগতিতে তরুণদের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। তারুণ্যের এই শক্তি যাতে সমাজের সম্পদ হিসেবে টিকে থাকে, সেদিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিজেদের যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। জুলাই যোদ্ধা লিটন আহমদ তাঁদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।
এ সময় শহীদ পাভেলের বাবা গোলাপগঞ্জের সাত শহীদের কবর জিয়ারতের জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়া শহীদ সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের ভাই জাবুর আহমদ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি জুলাই যোদ্ধাদের জাতির গর্ব উল্লেখ করে তাদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ১৪টি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।



































