ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবির ছাত্রীদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান নারীপক্ষের

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 28

ঢাবির ছাত্রীদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান নারীপক্ষের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে নারীপক্ষ। সংগঠনটির দাবি, ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ নামে পরিচিত বিধিনিষেধ নারীর স্বাধীন চলাচল ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে নারীপক্ষ জানায়, নিরাপত্তার অজুহাতে নারীদের চলাচল সীমিত করা সহিংসতা প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নয়। বরং এটি নারীর শিক্ষা, স্বাধীনতা ও জনপরিসরে অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন সেই বৈষম্যমূলক মানসিকতারই প্রতিফলন।

সংগঠনটি ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ ও ‘অবরোধবাসিনী’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন। নিয়মিত ফি পরিশোধ করলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা নিজ হলেই প্রবেশের সুযোগ পান না। এছাড়া রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত হলের গেট বন্ধ থাকায় অনেক ছাত্রী হয়রানি, অপমানজনক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দূরপাল্লার ভ্রমণ শেষে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ফেরা, জরুরি চিকিৎসা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিংবা টিউশনি শেষে হলে ফিরতে দেরি হওয়ার মতো বাস্তব পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে শুধু নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ বৈষম্যমূলক এবং অযৌক্তিক।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক, সাংবিধানিক ও মানবাধিকারসম্মত উল্লেখ করে নারীপক্ষ কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে; ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন অবিলম্বে বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সব ছাত্রীকে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ ও রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নারী আত্মীয়দের হলে প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলেও এসব নীতি কার্যকর করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

নারীপক্ষের মতে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর উপায় তাদের স্বাধীনতা সীমিত করা নয়; বরং বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাবির ছাত্রীদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান নারীপক্ষের

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে নারীপক্ষ। সংগঠনটির দাবি, ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ নামে পরিচিত বিধিনিষেধ নারীর স্বাধীন চলাচল ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে নারীপক্ষ জানায়, নিরাপত্তার অজুহাতে নারীদের চলাচল সীমিত করা সহিংসতা প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নয়। বরং এটি নারীর শিক্ষা, স্বাধীনতা ও জনপরিসরে অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন সেই বৈষম্যমূলক মানসিকতারই প্রতিফলন।

সংগঠনটি ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ ও ‘অবরোধবাসিনী’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন। নিয়মিত ফি পরিশোধ করলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা নিজ হলেই প্রবেশের সুযোগ পান না। এছাড়া রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত হলের গেট বন্ধ থাকায় অনেক ছাত্রী হয়রানি, অপমানজনক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দূরপাল্লার ভ্রমণ শেষে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ফেরা, জরুরি চিকিৎসা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিংবা টিউশনি শেষে হলে ফিরতে দেরি হওয়ার মতো বাস্তব পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে শুধু নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ বৈষম্যমূলক এবং অযৌক্তিক।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক, সাংবিধানিক ও মানবাধিকারসম্মত উল্লেখ করে নারীপক্ষ কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে; ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন অবিলম্বে বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সব ছাত্রীকে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ ও রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নারী আত্মীয়দের হলে প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলেও এসব নীতি কার্যকর করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

নারীপক্ষের মতে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর উপায় তাদের স্বাধীনতা সীমিত করা নয়; বরং বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।