ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরু চুরি করে বউভাতের আয়োজন, পণ্ড ভূরিভোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:২২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 42

গরু চুরি করে বউভাতের আয়োজন, পণ্ড ভূরিভোজ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গরু চুরি করে সেই মাংস দিয়ে ছেলের বউভাতের আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম (৫২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে গরুর মালিক ও স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে জবাই করা গরুর মাংস দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাংস, মাথা, চামড়া ও পা জব্দ করে এবং রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের পশ্চিম মাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় শহিদুল ইসলাম তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দামের কালো রঙের একটি ক্রস জাতের গাভি গোয়ালঘরে বেঁধে রাখেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং গোয়ালঘরের দরজা খোলা। পরে গাভিটি আর গোয়ালঘরে পাওয়া যায়নি।

এরপর স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গরুটির সন্ধানে বের হন শহিদুল। বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে সেটি অনুসরণ করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে পাশের বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বিয়ের গেট দিয়ে সাজানো বাড়িতে গিয়ে তারা দেখতে পান, একটি গরু জবাই করে মাংস কাটা হচ্ছে।

শহিদুলের দাবি, সেখানে জবাই করা গরুটি তার চুরি যাওয়া গাভি। বিষয়টি নিয়ে রফিকুল ইসলাম ও তার স্বজনদের সঙ্গে শহিদুল ও তার ভাতিজা আনারুলের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় রফিকুল দাবি করেন, ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানের জন্য কেনা গরুটিই তিনি জবাই করেছেন।

একপর্যায়ে গরুর মাথা ও চামড়া দেখতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় অভিযুক্তদের কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনারুলের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতে কাটা জখম হয়।

পরে রফিকুল ইসলামের বাড়ির একটি চটের বস্তা থেকে গরুর মাথা ও চামড়া উদ্ধার করা হয়। এ সময় কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে জবাই করা গরুর মাংস, মাথা, চামড়া ও পা জব্দ করা হয়।

আহত আনারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

মামলায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন একই গ্রামের সোহান (২৩), রাব্বি (২১) ও শফিকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অন্যরা পলাতক।

গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার একটি মাত্র গাভি ছিল। বাছুরটিকে রেখে গাভিটি চুরি করে নিয়ে ওরা বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিল। আমি সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গরু চুরি করে বউভাতের আয়োজন, পণ্ড ভূরিভোজ

সর্বশেষ আপডেট ০৫:২২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গরু চুরি করে সেই মাংস দিয়ে ছেলের বউভাতের আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম (৫২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে গরুর মালিক ও স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে জবাই করা গরুর মাংস দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাংস, মাথা, চামড়া ও পা জব্দ করে এবং রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের পশ্চিম মাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় শহিদুল ইসলাম তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দামের কালো রঙের একটি ক্রস জাতের গাভি গোয়ালঘরে বেঁধে রাখেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং গোয়ালঘরের দরজা খোলা। পরে গাভিটি আর গোয়ালঘরে পাওয়া যায়নি।

এরপর স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গরুটির সন্ধানে বের হন শহিদুল। বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে সেটি অনুসরণ করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে পাশের বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বিয়ের গেট দিয়ে সাজানো বাড়িতে গিয়ে তারা দেখতে পান, একটি গরু জবাই করে মাংস কাটা হচ্ছে।

শহিদুলের দাবি, সেখানে জবাই করা গরুটি তার চুরি যাওয়া গাভি। বিষয়টি নিয়ে রফিকুল ইসলাম ও তার স্বজনদের সঙ্গে শহিদুল ও তার ভাতিজা আনারুলের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় রফিকুল দাবি করেন, ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানের জন্য কেনা গরুটিই তিনি জবাই করেছেন।

একপর্যায়ে গরুর মাথা ও চামড়া দেখতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় অভিযুক্তদের কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনারুলের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতে কাটা জখম হয়।

পরে রফিকুল ইসলামের বাড়ির একটি চটের বস্তা থেকে গরুর মাথা ও চামড়া উদ্ধার করা হয়। এ সময় কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে জবাই করা গরুর মাংস, মাথা, চামড়া ও পা জব্দ করা হয়।

আহত আনারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

মামলায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন একই গ্রামের সোহান (২৩), রাব্বি (২১) ও শফিকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অন্যরা পলাতক।

গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার একটি মাত্র গাভি ছিল। বাছুরটিকে রেখে গাভিটি চুরি করে নিয়ে ওরা বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিল। আমি সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।