রিমান্ড শেষে কারাগারে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 43
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির না করেই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এদিন আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াতপন্থি আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩০ জনের বেশি আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি ৪০ জনের বেশি আইনজীবীও আদালতে হাজির হন।
শুনানি শুরুর আগে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আইনজীবীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামানও দুই হাত জোড় করে পরিস্থিতি শান্ত করার অনুরোধ করেন। পরে পরিবেশ স্বাভাবিক হলে বিচারক এজলাসে ফিরে আসেন।
শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ভাঙা গলায় আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি অসুস্থ। আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানি করার অনুমতি দিন।’
আসামিপক্ষ থেকে তার জামিনের আবেদন করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে শনিবার আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেওয়ার আগে আদালতে ওঠার সময় নিজের মাথার হেলমেট রাগের সঙ্গে ছুড়ে ফেলে ‘সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না’ বলে মন্তব্য করতে দেখা যায় তাকে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও তাকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হুমকি-ধমকির পর্যায়ে পৌঁছায়। পরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
































