ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ দলের কর্মসূচির পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে: ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 8

নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশের পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে।

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের সম্ভাব্য মিছিল, সমাবেশ ও জমায়েতের পরিকল্পনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরা ও তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার জানান, নিষিদ্ধ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল বা সমাবেশের চেষ্টা হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। এ কারণে গত তিন দিন ধরে ঢাকার প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট, মোবাইল ও ফুট পেট্রোল জোরদার করা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি, সন্দেহভাজন মেস, হোটেল ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। এ অভিযানে কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে তারা মাঠে নামতে চেয়েছিল। তবে পুলিশের সক্রিয় পদক্ষেপে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

ককটেল বিস্ফোরণের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নাশকতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। সে কারণে রাজধানীতে প্রবেশপথসহ বিভিন্ন স্থানে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

আশুরা ও তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে কোনো নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার জানান, এ বছরের আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ২৮টি ইমামবাড়া থেকে ৬৩টি তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মিছিলের রুট ও সমাবেশস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড, ছাদে নজরদারি, ড্রোন ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মিছিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে আর্চওয়ে গেট, মেটাল ডিটেক্টর এবং ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার পেট্রোলিংও অব্যাহত থাকবে।

আগামী ২৬ জুন তাজিয়া মিছিলের নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে উল্লেখ করে নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিষিদ্ধ দলের কর্মসূচির পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে: ডিএমপি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশের পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে।

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের সম্ভাব্য মিছিল, সমাবেশ ও জমায়েতের পরিকল্পনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরা ও তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার জানান, নিষিদ্ধ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল বা সমাবেশের চেষ্টা হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। এ কারণে গত তিন দিন ধরে ঢাকার প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট, মোবাইল ও ফুট পেট্রোল জোরদার করা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি, সন্দেহভাজন মেস, হোটেল ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। এ অভিযানে কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে তারা মাঠে নামতে চেয়েছিল। তবে পুলিশের সক্রিয় পদক্ষেপে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

ককটেল বিস্ফোরণের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নাশকতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। সে কারণে রাজধানীতে প্রবেশপথসহ বিভিন্ন স্থানে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

আশুরা ও তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে কোনো নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার জানান, এ বছরের আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ২৮টি ইমামবাড়া থেকে ৬৩টি তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মিছিলের রুট ও সমাবেশস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড, ছাদে নজরদারি, ড্রোন ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মিছিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে আর্চওয়ে গেট, মেটাল ডিটেক্টর এবং ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার পেট্রোলিংও অব্যাহত থাকবে।

আগামী ২৬ জুন তাজিয়া মিছিলের নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে উল্লেখ করে নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার।