আলোচনা হলেও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 9
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি দেখা গেলেও ইরানের ওপর থাকা সব নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। প্রক্রিয়াটি এগোচ্ছে, তবে গতি ও ফলাফল—দুটোই এখনো শর্তসাপেক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংলাপ নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তথাকথিত “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক”। ইসহাক দারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে দুই পক্ষ আবারও টেবিলে বসেছে, যদিও চূড়ান্ত সমাধান এখনো অনেক দূরের বিষয় বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি স্পর্শকাতর ইস্যু—ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননের চলমান পরিস্থিতি। এই বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণের জন্য যৌথভাবে তিনটি কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক কাঠামোগত পর্যায়েই রয়েছে।
ইসহাক দার জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সময়সীমা বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ, কূটনৈতিক অগ্রগতি থাকলেও তা দ্রুত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই।
পাকিস্তানের ভূমিকা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে আনার পেছনে ইসলামাবাদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ ধরনের মধ্যস্থতা কতটা স্থায়ী ফল দেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন একটি কাঠামোর কথাও উঠে এসেছে, যেখানে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্ক মিলে একটি ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক জোট হিসেবে নয়, বরং বিস্তৃত আঞ্চলিক স্বার্থের একটি সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে—যদিও এর কার্যকারিতা সময়ই নির্ধারণ করবে।




































