যুবদের ক্ষমতায়নে ইউথ কনক্লেভ ২০২৬
অর্থবহ যুব অংশগ্রহণ এখন আর ঐচ্ছিক নয়
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 79
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর ব্যবস্থা গঠনে অর্থবহ যুব অংশগ্রহণ এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং অত্যাবশ্যক। দেশের ছয়টি যুব- নেতৃত্বাধীন সংগঠন তাদের উদ্ভাবনী এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা সেই ছয়টি যুব- নেতৃত্বাধীন সংগঠন পেলো ইউথ ইকুয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) যুবদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মিলিটারি মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউথ কনক্লেভ ২০২৬।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কনক্লেভে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, যুব নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা ।
কনক্লেভে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুব ও যুবনারীদের আরও কার্যকর ও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কনক্লেভে আলোচনায় উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে যুবরা শুধুমাত্র পরামর্শ প্রদানের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সময় এসেছে তাদেরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার।
ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান বলেন,“যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৭৫ লাখ যুবকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে । অনেককে ঋণ সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষি ও মৎস্য খাতে যুবদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। যা বেকারত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
কবিতা বোস বলেন,“বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন যুব ও যুব নারীরা রয়েছে এবং দেশের প্রতিটি আন্দোলন ও পরিবর্তনে তারা নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা শুধু তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছি না, বরং তাদের কণ্ঠস্বর, নেতৃত্ব এবং পরিবর্তন আনার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছি। আজকের পুরস্কারপ্রাপ্ত যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো সেই সম্ভাবনারই প্রতিফলন।”
“শাসন ব্যবস্থায় যুবদের কণ্ঠস্বর” এর প্রথম প্যানেল আলোচনায় উঠে এসেছে, কীভাবে যুবদের অংশগ্রহণকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও ধারাবাহিক করা যায়। যাতে তারা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কার্যকরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
বক্তারা বলেন, এককালীন পরামর্শ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
“প্রতীকী অংশগ্রহণ থেকে অর্থবহ সম্পৃক্ততা” বিষয়ক দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনায় জেন্ডার বৈষম্য, শহর-গ্রাম ভিত্তিক বৈষম্য এবং প্রান্তিক যুবদের সীমিত সুযোগের মতো চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও সচেতন উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য।”
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এই উদ্যোগে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে। যা অর্থবহ যুব নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কনক্লেভের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা, প্রতীকী অংশগ্রহণ থেকে বেরিয়ে এসে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, ইউথ ইকুয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড শুধুমাত্র একটি স্বীকৃতি নয়, বরং যুবনারী ও যুবদের হাতে দায়িত্ব ও সম্পদ অর্পণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগঠনগুলো এখন তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে ধারাবাহিক মেন্টরশিপ ও সহায়তার মাধ্যমে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগঠনগুলো হলো: জিনস টোটেস, ইয়ুথ একশন ফর ডেভেলপমেন্ট, কোস্টাল এডুকেশন এন্ড ডাইভারসিটি ইমপ্রুভমেন্ট অর্গানাইজেশন, এফএফসিআরজে ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, সিএপিইসি এবং নবপ্রভাত ফাউন্ডেশন।



































