স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ২০ নারীকে পিয়ার এডুকেটর প্রশিক্ষণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / 28
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ বিষয়ে ২০ জন নারীকে পিয়ার এডুকেটর হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও কম সেবাপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করবেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) নারী উন্নয়ন শক্তি ও ইয়ং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের যৌথ উদ্যোগে এনইউএস ট্রেনিং সেন্টারে ‘স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে পিয়ার এডুকেটর উন্নয়ন প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইয়ং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের নুসরাত সুলতানা আফোজ, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেলিনা খাতুন এবং ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সাহিদা ওয়াহাব।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সালের GLOBOCAN-এর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারের নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৮০ এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ২১২ জনের। নারীদের মধ্যে ক্যান্সারের নতুন আক্রান্তের দিক থেকে স্তন ক্যান্সার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারীদের স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগটি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা নারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কৌশল শেখানো হয়।
বক্তারা বলেন, সামাজিক সংকোচ, ভয় এবং সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করতেও বিলম্ব হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, কমিউনিটি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও বেসরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন বলেন, প্রশিক্ষিত পিয়ার এডুকেটররা নারী থেকে নারীর কাছে সহজ ভাষায় সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে বিশেষ তহবিল গঠন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং দরিদ্র নারীদের জন্য সাশ্রয়ী রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ছাড়া ক্যান্সার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, এনজিও ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর আহ্বান জানান তারা।
































