ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এলজিআরডি মন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 108

এলজিআরডি মন্ত্রী

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আবদুল মঈন খান বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বড় শহরগুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তবে লার্ভার উৎস ধ্বংসে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব স্থানে মশা জন্মায়, সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, মশা নিধনের ওষুধ কতটা কার্যকর তা নিয়ে জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় গবেষণা ও পর্যালোচনা চলছে। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশার বিস্তার রোধে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রোববার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরে থাকা ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এলজিআরডি মন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আবদুল মঈন খান বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বড় শহরগুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তবে লার্ভার উৎস ধ্বংসে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব স্থানে মশা জন্মায়, সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, মশা নিধনের ওষুধ কতটা কার্যকর তা নিয়ে জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় গবেষণা ও পর্যালোচনা চলছে। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশার বিস্তার রোধে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রোববার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরে থাকা ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।