ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেদরগঞ্জে শিক্ষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 17

ভেদরগঞ্জে শিক্ষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হোটেল ম্যানেজার আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ দল।

বুধবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির। গ্রেপ্তার আতাউর রহমান সোনাইমুড়ী উপজেলার ছালেহ আহম্মেদের ছেলে। তাঁর বয়স ৫৮ বছর।

এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার (৩৯) নামে এক স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মৃত জনাব আলী তালুকদার।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিন ভেদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আতাউর রহমানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ দল।

এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভেদরগঞ্জে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশার হত্যা মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আতাউর রহমানকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, আবুল বাশার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় তাঁর পূর্বপুরুষদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। গত রোববার রাতে তিনি স্ত্রীকে ফোন করে এক বন্ধুর বাসায় থাকার কথা জানান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের অভিযোগ, পরে আবুল বাশারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। প্রথমে ২ হাজার টাকা এবং পরে একটি রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর থানায় জানানো হলে পুলিশ মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে ভেদরগঞ্জে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

পরে পরিবারের সদস্যরা ভেদরগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তা চান। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্ত চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভেদরগঞ্জে শিক্ষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হোটেল ম্যানেজার আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ দল।

বুধবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির। গ্রেপ্তার আতাউর রহমান সোনাইমুড়ী উপজেলার ছালেহ আহম্মেদের ছেলে। তাঁর বয়স ৫৮ বছর।

এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার (৩৯) নামে এক স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মৃত জনাব আলী তালুকদার।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিন ভেদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আতাউর রহমানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ দল।

এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভেদরগঞ্জে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশার হত্যা মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আতাউর রহমানকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, আবুল বাশার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় তাঁর পূর্বপুরুষদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। গত রোববার রাতে তিনি স্ত্রীকে ফোন করে এক বন্ধুর বাসায় থাকার কথা জানান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের অভিযোগ, পরে আবুল বাশারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। প্রথমে ২ হাজার টাকা এবং পরে একটি রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর থানায় জানানো হলে পুলিশ মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে ভেদরগঞ্জে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

পরে পরিবারের সদস্যরা ভেদরগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তা চান। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্ত চলছে।