ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বরবৃত্তের আবৃত্তিতে সময় ও জীবনের বন্দনা

সংস্কৃতি প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 16

স্বরবৃত্তের আবৃত্তিতে সময় ও জীবনের বন্দনা

কবিতা মানুষের অনুভূতি, জীবনসংগ্রাম, সুখ-দুঃখ ও অনন্ত আশাকে শব্দ ও ছন্দে ধারণ করে। সেই কবিতার শক্তিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বরবৃত্ত’-এর বিশেষ আয়োজন ‘সময় ও জলের কাব্য’।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বর্ষা ও শরতের সন্ধিক্ষণে বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে স্বরবৃত্তের সভাপতি মো. আকতার হোসেন উপস্থিত শিল্পী ও শ্রোতাদের স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে ২২টি নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি করেন সংগঠনের শিল্পীরা। শুরুতেই জান্নাতুল ফেরদৌস রীমার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ শ্রোতাদের নস্টালজিয়ায় ভাসিয়ে দেয়। পরে তিনি জীবনানন্দ দাশের ‘কুড়ি বছর পরে’ পরিবেশন করেন।

কবি মনোজ দত্ত তাঁর স্বরচিত ‘ঘুড়ি’ এবং অমিয় চক্রবর্তীর ‘বৃষ্টি’ কবিতা আবৃত্তি করেন। শিউলি রানী বালা পরিবেশন করেন তাঁর নিজের লেখা ‘চিঠি’ কবিতা।

বর্ষার আবহ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে মরিয়ম আক্তার ঝর্ণার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘আষাঢ়’ এবং মহাদেব সাহার ‘মানুষই মহৎ শিল্প’ কবিতায়। জাতীয়বোধ ও স্মৃতিচারণের আবহ তৈরি করেন খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি আবৃত্তি করেন আহসান হাবীবের ‘আমি কোন আগন্তুক নই’ ও শামসুর রাহমানের ‘শহীদ জননীকে নিবেদিত পংক্তিমালা’।

ঋতু ও স্মৃতির মেলবন্ধনে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বৈশাখের নাগর দোলায়’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বর্ষার দিনে’ আবৃত্তি করেন কামরুন নাহার বাবলি। সুস্মিতা হকের কণ্ঠে মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘শুভম তোমাকে’ ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘শেফালির ফুল’ কবিতাও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

স্বরবৃত্তের সভাপতি মো. আকতার হোসেন একক পরিবেশনায় আবৃত্তি করেন মহাদেব সাহার ‘মন ভাল নেই’ এবং সৈয়দ শামসুল হকের নাট্যকাব্য ‘নূরলদীনের সারাজীবন’। শিউলি রানী বালার সঙ্গে তাঁর দ্বৈত আবৃত্তিতে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘যা চেয়েছি, যা পাবো না’ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

প্রেম, বিরহ ও মানবমুক্তির আবহে মাহানুর জাবিন শারমিন পরিবেশন করেন জয় গোস্বামীর ‘মেঘবালিকার জন্য রূপকথা’ ও মহাদেব সাহার ‘মানুষের সাথে থাকো’। তরুণ আবৃত্তিশিল্পী মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহা পরিবেশন করেন হেলাল হাফিজের ‘ইচ্ছে ছিল’ এবং আবুল হাসানের ‘বৃষ্টি চিহ্নিত ভালোবাসা’।

পরে মাহানুর জাবিন শারমিন ও মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহার যৌথ কণ্ঠে জয় গোস্বামীর ‘কথোপকথন ১৩’ এবং আতাউর রহমানের ‘বর্তমানতা’ পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সব শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বাঙলাদেশ’ কবিতার শক্তিশালী আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘সময় ও জলের কাব্য’।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহানুর জাবিন শারমিন। মঞ্চসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন সুস্মিতা হক।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্বরবৃত্তের আবৃত্তিতে সময় ও জীবনের বন্দনা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

কবিতা মানুষের অনুভূতি, জীবনসংগ্রাম, সুখ-দুঃখ ও অনন্ত আশাকে শব্দ ও ছন্দে ধারণ করে। সেই কবিতার শক্তিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বরবৃত্ত’-এর বিশেষ আয়োজন ‘সময় ও জলের কাব্য’।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বর্ষা ও শরতের সন্ধিক্ষণে বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে স্বরবৃত্তের সভাপতি মো. আকতার হোসেন উপস্থিত শিল্পী ও শ্রোতাদের স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে ২২টি নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি করেন সংগঠনের শিল্পীরা। শুরুতেই জান্নাতুল ফেরদৌস রীমার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ শ্রোতাদের নস্টালজিয়ায় ভাসিয়ে দেয়। পরে তিনি জীবনানন্দ দাশের ‘কুড়ি বছর পরে’ পরিবেশন করেন।

কবি মনোজ দত্ত তাঁর স্বরচিত ‘ঘুড়ি’ এবং অমিয় চক্রবর্তীর ‘বৃষ্টি’ কবিতা আবৃত্তি করেন। শিউলি রানী বালা পরিবেশন করেন তাঁর নিজের লেখা ‘চিঠি’ কবিতা।

বর্ষার আবহ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে মরিয়ম আক্তার ঝর্ণার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘আষাঢ়’ এবং মহাদেব সাহার ‘মানুষই মহৎ শিল্প’ কবিতায়। জাতীয়বোধ ও স্মৃতিচারণের আবহ তৈরি করেন খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি আবৃত্তি করেন আহসান হাবীবের ‘আমি কোন আগন্তুক নই’ ও শামসুর রাহমানের ‘শহীদ জননীকে নিবেদিত পংক্তিমালা’।

ঋতু ও স্মৃতির মেলবন্ধনে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বৈশাখের নাগর দোলায়’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বর্ষার দিনে’ আবৃত্তি করেন কামরুন নাহার বাবলি। সুস্মিতা হকের কণ্ঠে মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘শুভম তোমাকে’ ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘শেফালির ফুল’ কবিতাও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

স্বরবৃত্তের সভাপতি মো. আকতার হোসেন একক পরিবেশনায় আবৃত্তি করেন মহাদেব সাহার ‘মন ভাল নেই’ এবং সৈয়দ শামসুল হকের নাট্যকাব্য ‘নূরলদীনের সারাজীবন’। শিউলি রানী বালার সঙ্গে তাঁর দ্বৈত আবৃত্তিতে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘যা চেয়েছি, যা পাবো না’ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

প্রেম, বিরহ ও মানবমুক্তির আবহে মাহানুর জাবিন শারমিন পরিবেশন করেন জয় গোস্বামীর ‘মেঘবালিকার জন্য রূপকথা’ ও মহাদেব সাহার ‘মানুষের সাথে থাকো’। তরুণ আবৃত্তিশিল্পী মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহা পরিবেশন করেন হেলাল হাফিজের ‘ইচ্ছে ছিল’ এবং আবুল হাসানের ‘বৃষ্টি চিহ্নিত ভালোবাসা’।

পরে মাহানুর জাবিন শারমিন ও মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহার যৌথ কণ্ঠে জয় গোস্বামীর ‘কথোপকথন ১৩’ এবং আতাউর রহমানের ‘বর্তমানতা’ পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সব শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বাঙলাদেশ’ কবিতার শক্তিশালী আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘সময় ও জলের কাব্য’।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহানুর জাবিন শারমিন। মঞ্চসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন সুস্মিতা হক।