ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইফোন কিনতে সন্তান বিক্রির অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

আইফোন কিনতে সন্তান বিক্রির অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমকে শিশুপুত্র মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। পরে ছেলেকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজ শুরু করেন।

একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মারুফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আইফোন কেনার জন্য তার দেড় বছরের ছেলে মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে দিয়ে দিয়েছেন। ওই টাকা নিয়ে ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কেনার কথাও মারুফ জানিয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

ঘটনার পর থেকে মারুফ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তবে শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাদের সংসারে মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি আবার বাড়িতে ফেরেন।

মাহফুজা বেগম বলেন, শনিবার সকালে মারুফ তাকে নাতিকে সাজিয়ে দিতে বলেন। বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মুসাকে সঙ্গে নিয়ে বের হওয়ার পর সন্ধ্যা হয়ে গেলেও তারা ফেরেননি। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে দেওয়ার কথা মারুফ স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”

এদিকে শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন ফোনে জানান, মারুফ দীর্ঘদিন ধরেই তার কাছে ছেলেকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন বলে দাবি করেন ইমরান। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলেও জানান তিনি।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। শিশুটিকে যে ব্যক্তি নিয়েছেন, তাকে থানায় আনা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আইফোন কিনতে সন্তান বিক্রির অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমকে শিশুপুত্র মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। পরে ছেলেকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজ শুরু করেন।

একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মারুফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আইফোন কেনার জন্য তার দেড় বছরের ছেলে মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে দিয়ে দিয়েছেন। ওই টাকা নিয়ে ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কেনার কথাও মারুফ জানিয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

ঘটনার পর থেকে মারুফ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তবে শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাদের সংসারে মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি আবার বাড়িতে ফেরেন।

মাহফুজা বেগম বলেন, শনিবার সকালে মারুফ তাকে নাতিকে সাজিয়ে দিতে বলেন। বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মুসাকে সঙ্গে নিয়ে বের হওয়ার পর সন্ধ্যা হয়ে গেলেও তারা ফেরেননি। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে দেওয়ার কথা মারুফ স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”

এদিকে শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন ফোনে জানান, মারুফ দীর্ঘদিন ধরেই তার কাছে ছেলেকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন বলে দাবি করেন ইমরান। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলেও জানান তিনি।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। শিশুটিকে যে ব্যক্তি নিয়েছেন, তাকে থানায় আনা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।