ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজার পরই হবে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 6

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা পবিত্র রমজান মাসের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরীক্ষার সময়সূচি দেশের আবহাওয়া এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সময়সূচিও একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, এ বিবেচনায় এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য ফেব্রুয়ারি মাস সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে রমজানের কারণে আগামী বছর ওই সময়ে পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।

রোজার আগে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়। শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি বিবেচনায় জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করা হলে এক মাসের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব ছিল। কারণ আগামী বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু হলে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখের মধ্যেই পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হতো।

তবে পরীক্ষা আরও এগিয়ে আনলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি সিলেবাস শেষ করার পর পর্যাপ্ত রিভিশনের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও কোর্স পুনরালোচনার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত রোজার পর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই ক্ষতির মুখে ফেলা হবে না। তাদের সিলেবাস শেষ করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রিভিশন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগ দিতে হবে। তাই রোজার আগেই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি থাকলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রমজানের পরই এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়তি উদ্বেগ বা চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হলে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দেড় বছর আগেই পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তাদের জানানো হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাই পরীক্ষা নিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি চাপ বা আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রোজার পরই হবে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা পবিত্র রমজান মাসের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরীক্ষার সময়সূচি দেশের আবহাওয়া এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সময়সূচিও একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, এ বিবেচনায় এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য ফেব্রুয়ারি মাস সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে রমজানের কারণে আগামী বছর ওই সময়ে পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।

রোজার আগে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়। শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি বিবেচনায় জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করা হলে এক মাসের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব ছিল। কারণ আগামী বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু হলে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখের মধ্যেই পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হতো।

তবে পরীক্ষা আরও এগিয়ে আনলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি সিলেবাস শেষ করার পর পর্যাপ্ত রিভিশনের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও কোর্স পুনরালোচনার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত রোজার পর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই ক্ষতির মুখে ফেলা হবে না। তাদের সিলেবাস শেষ করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রিভিশন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগ দিতে হবে। তাই রোজার আগেই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি থাকলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রমজানের পরই এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়তি উদ্বেগ বা চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হলে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দেড় বছর আগেই পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তাদের জানানো হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাই পরীক্ষা নিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি চাপ বা আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।