ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে শিক্ষকসহ সপরিবারে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 153

রংপুরে শিক্ষকসহ সপরিবারে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

রংপুরের জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সংগঠনটির নেতারা অংশ নেন।

মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি। বক্তব্য দেন প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের আহসান হাবীব, আইডির সঞ্চিতা তালুকদার এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাকসুদা আক্তার লাইলী।

ফৌজিয়া খন্দকার ইভা বলেন, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে বিভিন্ন সরকারের আমলেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান তারা। পুলিশ, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারী, শিশু ও সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান চান তারা। তবে রংপুরের এ ঘটনায় অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আসামি গ্রেপ্তার এবং তদন্ত নিয়ে পুলিশের বক্তব্য দেওয়ায় নাগরিক সমাজের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, নিহতদের ধর্মীয় পরিচয়, সম্পত্তি ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা বা জঙ্গিবাদী তৎপরতার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, মাদক সংশ্লিষ্টতা কিংবা নারীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না; এসব দিকও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

মালেকা বানু জানান, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নিজস্বভাবে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু কোনো ব্যক্তির বয়ান বা স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণকে বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে আলামত এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দেশ নিরাপদ নয়;এমন একটি নেতিবাচক ধারণা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন, দ্রুত বিচার এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রংপুরে শিক্ষকসহ সপরিবারে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সংগঠনটির নেতারা অংশ নেন।

মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি। বক্তব্য দেন প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের আহসান হাবীব, আইডির সঞ্চিতা তালুকদার এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাকসুদা আক্তার লাইলী।

ফৌজিয়া খন্দকার ইভা বলেন, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে বিভিন্ন সরকারের আমলেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান তারা। পুলিশ, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারী, শিশু ও সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান চান তারা। তবে রংপুরের এ ঘটনায় অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আসামি গ্রেপ্তার এবং তদন্ত নিয়ে পুলিশের বক্তব্য দেওয়ায় নাগরিক সমাজের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, নিহতদের ধর্মীয় পরিচয়, সম্পত্তি ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা বা জঙ্গিবাদী তৎপরতার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, মাদক সংশ্লিষ্টতা কিংবা নারীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না; এসব দিকও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

মালেকা বানু জানান, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নিজস্বভাবে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু কোনো ব্যক্তির বয়ান বা স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণকে বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে আলামত এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দেশ নিরাপদ নয়;এমন একটি নেতিবাচক ধারণা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন, দ্রুত বিচার এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।