বিদ্যুতে শেখ হেলাল- বিপুর সহযোগী মিজানের দাপট চলছেই
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 49
সারাদেশে যখন লোডশেডিং চলছে, তখন বিদ্যুৎ বিভাগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী শেখ হেলাল উদ্দীন ও সাবেক বিদ্যুৎ মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সহযোগী মিজানুর রহমান দাপট দেখিয়েই চেলছেন। এ নিয়ে খোদ বিএনপিপন্থী ঠিকাদাররা ক্ষোভে ফুসছেন বিষয়টি নিয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুত বিভাগ থেকে শত শত কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই অবস্থা আগের মতোই রয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত সকলেই আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চেনার পর ও কাজ করে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই শেখ হেলালের লবিং কাজে লাগিয়ে মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট কাজ বাগিয়ে নেয়ার জন্য মাজেদুল হক রানার মাধ্যমে মন্ত্রীর পরিবার এর চূড়ান্ত লবিং করে যাচ্ছেন বিদ্যুত খাতে আওয়ামী লীগের মাফিয়াখ্যাত মিজানুর রহমান। এই কাজ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মিজান।
শেখ হেলালের পিএস বাবু যিনি বর্তমানে পালিয়ে সৌদি আরবে চলে গেছেন, তার মাধ্যমেই মিজানুর রহমান শেখ হেলালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেন। তার নাম ভাঙিয়ে শত কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। চব্বিশের আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে মামলাও হয়েছিল মিজানের বিরুদ্ধে। কিন্তু পুলিশকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে নাম কাটিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এখনো আওয়ামীলীগের লোকদের অর্থায়ন করে যাচ্ছেন। তার পাসপোর্ট জব্দ করে তাকে জিজ্ঞাবাদ অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তৃণমূল বিএনপি।
এদিকে, অবৈধ সম্পদেরও পাহাড় গড়েছেন বিদ্যুতের মাফিয়াখ্যাত মিজানুর রহমান। খোদ রাজধানীর গুলশানেই ২৪ কোটি টাকা দিয়ে একটা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট কিনেছেন। চাঁদপুরে নামে বেনামেও গড়েছেন সম্পদ। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ২০০৪ সালে ঢাকার নবাবপুরে একটা ইলেকট্রনিক্সের দোকান দিয়েছিলেন। এরপর ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মিজান যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান। এরপর বিদ্যুতে এক চেটিয়া ব্যবসা করে গেছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ প্রতিদিনে বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতার নিয়ে ‘সংকটের নেপথ্যে স্যাবোটাজ’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ করেছে সেখানে নসরুল হামিদ বিপুর কথা বলা হয়েছে। আর সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বিপুর একনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবই কাজ করে যাচ্ছেন আওয়মী লীগ আমলে বিদ্যুতের অলিখিত মাফিয়া এই মিজানুর রহমান।
অন্যদিন বিএনপিপন্থী ঠিকাদাররা বলছেন, এখনো আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ঠিকাদার কিভাবে সরকারের সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ পেয়ে যাচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। যদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানাবেন।
এ বিষয়ে জানতে মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।































