ঋণ থেকে লোডশেডিং এর অন্ধকার ভালো: বিদ্যুৎ মন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 238
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, ‘ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি)’-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন—অতিরিক্ত ঋণের দায় কাঁধে নিয়ে টানা বিদ্যুৎ সরবরাহের চেয়ে কিছু সময়ের লোডশেডিং অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।
তার ভাষায়, আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল, কিন্তু তা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে চেপে ধরেনি; এখন আলো জ্বলছে, তবে সেই আলোর নিচে ঋণের ভার জমেছে।
তিনি আগের সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতিকে তিনি বর্তমান সংকটের উৎস হিসেবে দেখেন।
পরিস্থিতিকে তিনি ‘বিশৃঙ্খল’ বলেই আখ্যা দেন—একটি এমন অবস্থা, যেখানে উৎপাদন আছে, কিন্তু আর্থিক ভিত্তি দুর্বল।
এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর কাছে বেসরকারি উৎপাদকদের বিপুল বকেয়া বিল পরিশোধের চাপ রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর হিসাবে, পাওনার অঙ্ক ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও আর্থিক দায় দ্রুত সঞ্চিত হচ্ছে।
খাতের অপচয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস এখন প্রায় ১০ শতাংশে—যা তার মতে অস্বস্তিকরভাবে বেশি। হিসাব দিয়ে তিনি জানান, প্রতি ১ শতাংশ অপচয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
সরকারের লক্ষ্য প্রথম ধাপে এটি ৫ শতাংশে, পরে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। এ অর্জন সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপ, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর মতো প্রতিষ্ঠানের শর্ত মোকাবিলা সহজ হতে পারে—এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি আঙুল তোলেন অনুসন্ধান ঘাটতির দিকে। দীর্ঘদিন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার না করে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতার ফলই আজকের চাপ—এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।
সরকার নিজস্ব রিগ সংগ্রহ ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলে দেশীয় কূপ থেকে উত্তোলন বাড়াতে চায়। তবে প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। সামনে গ্রীষ্মে গ্যাসের চাপ আরও কমতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।



































