আদিবাসী ভাষা হারাচ্ছে: উদ্বেগ বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-এর
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 280
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে আলাদা কোনো অঙ্গীকার দেখা যায়নি বলে বিশিষ্টজনেরা মন্তব্য করেছেন। রাজধানীর লালমাটিয়ায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের আদিবাসীদের প্রায় ৩৯টি ভাষা থাকলেও সেগুলোর অনেকই হারিয়ে যেতে বসেছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তা সংরক্ষণের দৃশ্যমান উদ্যোগ খুবই সীমিত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার আয়োজন করে বেসরকারি অধিকারভিত্তিক সংস্থা এএলআরডি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে ‘প্রান্তিক ভাষা, প্রান্তের ভাষা: তর্ক ও তৎপরতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন গবেষক পাভেল পার্থ।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়- এর নৃতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন- এর সদস্য ইলিরা দেওয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
মূল প্রবন্ধে পাভেল পার্থ বলেন, আদিবাসী ভাষা রক্ষার বিষয়টি কেবল শব্দ ও ব্যাকরণের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে তাদের সংস্কৃতি, ভূমি ও জীবিকার সম্পর্ক রয়েছে। অনেক গ্রামের নাম বদলে ফেলা হয়েছে, বাজার ও প্রশাসনিক নথিতে স্থানীয় নাম হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে ভাষার সঙ্গে জড়িত সাংস্কৃতিক স্মৃতিও ক্ষয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আদিবাসী ভাষার অধিকাংশই ব্যবহার না হওয়ার কারণে বিলুপ্তির পথে, এবং হাতে গোনা কয়েকজন প্রবীণই মাতৃভাষায় কথা বলেন।
শামসুল হুদা বলেন, ভাষার বৈচিত্র্য হারানো মানে সাংস্কৃতিক দরিদ্রতা। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষায় রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ জরুরি। তিনি আহ্বান জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রান্তিক ভাষা সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন বলেন, ভাষা গবেষণায় রাষ্ট্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই। বিচ্ছিন্ন গবেষণা দিয়ে ভাষার বর্তমান অবস্থা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভাষা বিষয়ক গবেষণা জোরদারের আহ্বান জানান।
সঞ্জীব দ্রং বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪১টি ভাষায় মানুষ কথা বলে, যার মধ্যে অধিকাংশই আদিবাসীদের। আন্তর্জাতিকভাবে আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণের দশক ঘোষণা করা হলেও দেশে কার্যকর উদ্যোগ নেই। ভাষা না জানার কারণে আদিবাসীদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, ভাষা রক্ষায় কেবল নীতিমালা নয়- শিক্ষা ব্যবস্থায় মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ, স্থানীয় ভাষায় সাহিত্য চর্চা এবং গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে আদিবাসী ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।
































