সুন্দরবনের বাঘ নিয়ে সুখবর
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 19
সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা গত এক দশকে ১৯টি বেড়ে ১২৫-এ পৌঁছেছে। তবে বাঘের সংখ্যা বাড়লেও শিকার, বনদস্যুদের তৎপরতা এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বন বিভাগের সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫টি। ২০১৪ সালের জরিপে এ সংখ্যা ছিল ১০৬টি, আর ২০১৮ সালে বেড়ে হয়েছিল ১১৪টি। বর্তমানে সুন্দরবনে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১৭টি বাঘ রয়েছে।
তবে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির এই ইতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। সুন্দরবন রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি শিকার বা পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, ৩০টি বার্ধক্য বা অসুস্থতায় মারা গেছে এবং তিনটি প্রাণ হারিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে।
তার মতে, হরিণ শিকারি ও বনদস্যুদের তৎপরতা বাঘের আবাসস্থলকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি শিকারিদের পাতা ফাঁদে একটি বাঘ আটকা পড়ার ঘটনাও সেই সংকটেরই প্রতিফলন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. সামিউল হক বলেন, একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের জন্য ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এবং স্ত্রী বাঘের জন্য ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার বিচরণক্ষেত্র প্রয়োজন। তবে পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশেষ করে হরিণ ও বুনো শূকর থাকলে তুলনামূলক ছোট এলাকাতেও বাঘ টিকে থাকতে পারে।
তিনি বাঘ সংরক্ষণে হরিণ শিকার বন্ধ, বন উজাড় রোধ, শিকার ও পাচারবিরোধী আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং ক্যামেরা ট্র্যাপ ও রেডিও কলারের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন বলেন, মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে বাঘের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। তাই নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা জরুরি।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সর্বশেষ জরিপে আগের তুলনায় ১৯টি বেশি বাঘ পাওয়া গেছে। বাঘের সংখ্যা আরও বাড়াতে হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩৫ জন হরিণ পাচারকারীর তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকার সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বনদস্যু দমনের পাশাপাশি হরিণ পাচারবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া শিকারিদের ফাঁদে আহত একটি বাঘকে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান প্রজাতি। তাই জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের নিরাপদ অস্তিত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
































