ব্রিকস-এ যুক্ত হলে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি কি
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 25
ব্রিকসে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে চীন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চীনের বেইজিং এ ওই বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সেখানে এক ব্রিফিংয়ে এই কথা জানান।
এরপরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন- ব্রিকস কি? আর এই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হলে দেশের জন্য কি ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে?
ব্রিকস হলো বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি জোট। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে এর নামকরণ। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দেওয়ার আগে এর নাম ছিল শুধু ‘ব্রিক’। পরে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ এতে যুক্ত হয়েছে।
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রিকস। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এই জোটের অংশ উল্লেখযোগ্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় তাদের প্রভাব বৃদ্ধি করাই এই জোটের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে এটি মূলত পশ্চিমা-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার প্রভাব কমানোর একটি প্রচেষ্টা।
ব্রিকসের নিজস্ব উন্নয়ন ব্যাংক- নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক- সদস্য দেশগুলোর অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নও করে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ সদস্য হলে অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন অর্থায়নের সুযোগ, সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগও ভবিষ্যতে বাড়তে পারে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। তাই ব্রিকসে যোগ দিলেও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এছাড়া ব্রিকসে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলনামূলক বেশি, আবার ভারত-চীনসহ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যও রয়েছে। তাছাড়া ব্রিকস কোনো মুক্ত বাণিজ্য জোট নয়। ফলে সদস্যপদ পেলেই রপ্তানি বা বিনিয়োগে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আসবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।
অর্থাৎ, ব্রিকসে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে। তবে সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক নীতির ওপর।




































