ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভেনেজুয়েলা জরুরি অবস্থা জারি

শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / 20

ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী দু’টি জোড়া ভূমিকম্প। এই ভয়াবহ দুর্যোগে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলের ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এই উপকূলীয় অঞ্চলেই দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার অবস্থিত। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।

ইউএসজিএস (USGS) তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ও ঘরবাড়ি ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তি মেনে তৈরি না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। ভূমিকম্পের পর ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

রাজধানী কারাকাসের আকাশচুম্বী ভবনগুলো ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া শত শত মানুষ বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। বৃহত্তর কারাকাসের চাকাও এলাকার মেয়র গুস্তাভো দুকে সায়েজ জানিয়েছেন, তাঁর এলাকায় অন্তত দুটি বহুতল ভবন সম্পূর্ণ ধসে গেছে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫০০-রও বেশি উদ্ধারকর্মী তৎপরতা চালাচ্ছেন। ১৯৬৭ সালের পর কারাকাসে এটিই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের আঘাত। সে সময় ১৯৬৭ সালে এক ভূমিকম্পে ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক জরুরি ভাষণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার তদারকির জন্য একজন সামরিক জেনারেলকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি দেশবাসীকে এই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এদিকে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেইও জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, গ্যাস বা জ্বালানি লাইনে বিস্ফোরণজনিত বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আগে থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় তাদের নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ঐতিহাসিক ‘কারাবোবো যুদ্ধের’ স্মরণে জাতীয় ছুটি থাকায় সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় বেশিরভাগ মানুষ নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভেনেজুয়েলা জরুরি অবস্থা জারি

শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে

সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী দু’টি জোড়া ভূমিকম্প। এই ভয়াবহ দুর্যোগে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলের ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এই উপকূলীয় অঞ্চলেই দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার অবস্থিত। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।

ইউএসজিএস (USGS) তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ও ঘরবাড়ি ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তি মেনে তৈরি না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। ভূমিকম্পের পর ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

রাজধানী কারাকাসের আকাশচুম্বী ভবনগুলো ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া শত শত মানুষ বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। বৃহত্তর কারাকাসের চাকাও এলাকার মেয়র গুস্তাভো দুকে সায়েজ জানিয়েছেন, তাঁর এলাকায় অন্তত দুটি বহুতল ভবন সম্পূর্ণ ধসে গেছে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫০০-রও বেশি উদ্ধারকর্মী তৎপরতা চালাচ্ছেন। ১৯৬৭ সালের পর কারাকাসে এটিই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের আঘাত। সে সময় ১৯৬৭ সালে এক ভূমিকম্পে ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক জরুরি ভাষণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার তদারকির জন্য একজন সামরিক জেনারেলকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি দেশবাসীকে এই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এদিকে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেইও জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, গ্যাস বা জ্বালানি লাইনে বিস্ফোরণজনিত বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আগে থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় তাদের নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ঐতিহাসিক ‘কারাবোবো যুদ্ধের’ স্মরণে জাতীয় ছুটি থাকায় সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় বেশিরভাগ মানুষ নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।