ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পশুর ট্রাকে দুর্ধর্ষ ছিনতাই

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফার বীরত্ব ও পুরস্কারের ভেতরের গল্প

এস এম আর শহিদ | বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / 168

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফার বীরত্ব ও পুরস্কারের ভেতরের গল্প

রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার গাবতলী পশুরহাট এলাকায় একদল সংঘবদ্ধ অপরাধী অস্ত্রের মুখে একটি পশুভর্তি ট্রাক ছিনতাই করে চম্পট দেয়। কিন্তু অপরাধীদের সেই উল্লাস বেশিদিন স্থায়ী হতে দেননি ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের একদল চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সেই ছিনতাইকৃত ট্রাকসহ সব গবাদিপশু অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. গোলাম মোস্তফা। আর এই বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভূষিত হয়েছেন বিশেষ সাহসিকতার পুরস্কারে।
​গত বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) দুপুর ১২টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষে এই বিশেষ সম্মাননা ও স্মারক ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফার হাতে তুলে দেন ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।

​যেভাবে পরিচালিত হলো সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় গাবতলী পশুরহাট এলাকায় একটি বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানের মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. গোলাম মোস্তফা।

​সাধারণত ট্রাফিক পুলিশের কাজ সড়ক নিয়ন্ত্রণ করা হলেও, অপরাধের খবর পেয়ে মোস্তফা ও তাঁর দল কোনো দ্বিধা করেননি। চরম সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তারা ছিনতাইকারীদের চক্রটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন। ফলশ্রুতিতে, গরু-ছাগল বোঝাই ছিনতাইকৃত ট্রাকটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা।
​আইনি পদক্ষেপ: এই ঘটনায় অপরাধীদের ছাড় দেয়নি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর থানায় মামলা (নং-৪২(৫)২৬) এবং দারুসসালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৭৯৮, তারিখ: ২৬/০৫/২০২৬) দায়ের করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সাহসিকতার অনন্য স্বীকৃতি

​কর্তব্যের প্রতি একনিষ্ঠতা এবং অপরাধ দমনে এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এই সাহসিকতার স্মারক তুলে দেওয়ার সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
​পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী ভূমিকা একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে, অন্যদিকে অপরাধীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলেই আইনি খাঁচায় বন্দি হতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পশুর ট্রাকে দুর্ধর্ষ ছিনতাই

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফার বীরত্ব ও পুরস্কারের ভেতরের গল্প

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার গাবতলী পশুরহাট এলাকায় একদল সংঘবদ্ধ অপরাধী অস্ত্রের মুখে একটি পশুভর্তি ট্রাক ছিনতাই করে চম্পট দেয়। কিন্তু অপরাধীদের সেই উল্লাস বেশিদিন স্থায়ী হতে দেননি ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের একদল চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সেই ছিনতাইকৃত ট্রাকসহ সব গবাদিপশু অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. গোলাম মোস্তফা। আর এই বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভূষিত হয়েছেন বিশেষ সাহসিকতার পুরস্কারে।
​গত বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) দুপুর ১২টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষে এই বিশেষ সম্মাননা ও স্মারক ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফার হাতে তুলে দেন ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।

​যেভাবে পরিচালিত হলো সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় গাবতলী পশুরহাট এলাকায় একটি বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানের মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. গোলাম মোস্তফা।

​সাধারণত ট্রাফিক পুলিশের কাজ সড়ক নিয়ন্ত্রণ করা হলেও, অপরাধের খবর পেয়ে মোস্তফা ও তাঁর দল কোনো দ্বিধা করেননি। চরম সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তারা ছিনতাইকারীদের চক্রটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন। ফলশ্রুতিতে, গরু-ছাগল বোঝাই ছিনতাইকৃত ট্রাকটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা।
​আইনি পদক্ষেপ: এই ঘটনায় অপরাধীদের ছাড় দেয়নি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর থানায় মামলা (নং-৪২(৫)২৬) এবং দারুসসালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৭৯৮, তারিখ: ২৬/০৫/২০২৬) দায়ের করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সাহসিকতার অনন্য স্বীকৃতি

​কর্তব্যের প্রতি একনিষ্ঠতা এবং অপরাধ দমনে এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এই সাহসিকতার স্মারক তুলে দেওয়ার সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
​পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী ভূমিকা একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে, অন্যদিকে অপরাধীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলেই আইনি খাঁচায় বন্দি হতে হবে।