কারাগারে এমপি গাজী নজরুল
প্রথম স্ত্রী শয়নকক্ষে, মরিয়ম বেলকনিতে
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 43
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে মাঝে মাঝে শয়নকক্ষের পাশের বেলকনিতে রাত কাটাতে হতো।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমান্ড শেষে নজরুলকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আদালতে দেওয়া আবেদনে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তে কাজে আসবে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার বাদী নজরুলের পূর্বপরিচিত এবং সম্পর্কে তার ভাগিনা। বাদীর মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে নজরুলের পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। ঢাকায় এলে নজরুল বাদীর বাসায় থাকতেন এবং সেখান থেকেই সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পরে মরিয়মের সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৬ জুন নজরুল মৌখিকভাবে মরিয়মকে বিয়ে করেন এবং পরে ওই তারিখ দেখিয়ে বিয়ে নিবন্ধন ও কাবিননামা সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর মরিয়মকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে রাখা হলেও স্ত্রী হিসেবে তাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হতো না বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ন্যাম ভবনের শয়নকক্ষে নজরুল প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে নিয়ে থাকতেন। অন্যদিকে মরিয়মকে মাঝে মাঝে ওই শয়নকক্ষের পাশের বেলকনিতে রাত কাটাতে হতো। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ন্যাম ভবনের পঞ্চম তলায় মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী না থাকলেও শুনানি শেষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়মের ওপর বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসবের প্রভাবে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
অন্যদিকে নজরুলের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, পারিবারিক অভিমানের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং রিমান্ডে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নজরুলের শারীরিক অসুস্থতার কথাও উল্লেখ করে জামিন চান।
তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই সময় ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কিছু চিরকুটও উদ্ধারের কথা জানানো হয়।
এ ঘটনায় পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাকছুদাও এক দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
































