মনোহরদীতে ২ কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং হাতেই উঠে যায়
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 61
নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কার্পেটিং শেষ হওয়ার একদিন পরই হাত দিয়ে ঘষা কিংবা পা দিয়ে চাপ দিলেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচের আস্তরণ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বৈরাগীরচর–কালিরচর–ভাওয়ালিয়াপাড়া হয়ে মনতলা বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজ গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে সড়কের প্রায় ১ হাজার মিটার অংশে কার্পেটিং শেষ করে। পরদিন সকালে স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে পিচের আস্তরণ হাত দিয়ে ঘষলে বা পা দিয়ে চাপ দিলে উঠে যেতে দেখেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ইটের খোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে পিচের আস্তরণ সড়কের সঙ্গে ঠিকমতো সংযুক্ত হয়নি। এ কাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তদারকির ঘাটতি ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নিয়ম মেনে সড়কের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান মিয়া বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। তবে সড়কে যে সমস্যা হয়েছে, তা সমাধানের জন্য তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন।
মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা পুরো সড়কের কারিগরি পরীক্ষা, নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তারা।






























