ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী নেতৃত্বের বাধা ও সম্ভাবনার গল্প ‘বিহান’

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 11

নারী নেতৃত্বের বাধা ও সম্ভাবনার গল্প ‘বিহান’

নারীর নেতৃত্বের পথে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা বাধা, সংগ্রাম এবং এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিহান’। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টায় অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্রটি।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ‘রাইজ অ্যান্ড লিড’ উদ্যোগের ভাবনা থেকে নির্মিত ‘বিহান’ পরিচালনা করেছেন হেমন্ত সাদীক। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল ও নিশাত প্রিয়ম।

দুই কর্মজীবী নারী শিউলি ও রাখিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে চলচ্চিত্রটির গল্প। পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে গিয়ে তারা সামাজিক প্রত্যাশা, পারিবারিক যত্নের দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং ক্ষমতার সম্পর্কের মতো নানা বাধার মুখোমুখি হয়।

গল্পের মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে, সমাজে প্রচলিত ধারণা ও অসম দায়িত্ব কীভাবে নারীর পেশাগত সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে নিজের সক্ষমতা ও কণ্ঠকে নতুন করে আবিষ্কার করার মধ্য দিয়ে একজন নারীর জীবনে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।

পরিচালক হেমন্ত সাদীক বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে কোনো নাটকীয় ঘটনা বা বক্তৃতার মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করা হয়নি। বরং নারীর জীবনের প্রতিদিনের সাধারণ সংগ্রামগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, নেতৃত্বের সূচনা অনেক সময় নিজেকে চিনতে শেখার মধ্য দিয়েই হয়।

চলচ্চিত্রটির দৃশ্যভাষাতেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পরিচিত শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবেশ, স্বাভাবিক অভিনয় এবং চরিত্রগুলোর আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে গল্প এগিয়েছে। আত্ম-অন্বেষণের প্রতীক হিসেবে চলচ্চিত্রে বারবার আয়না ও প্রতিবিম্বের ব্যবহার করা হয়েছে। শেষ দৃশ্যের সবুজ ট্রাফিক সিগন্যাল সামনে এগিয়ে যাওয়া ও নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে।

অভিনেত্রী নিশাত প্রিয়ম বলেন, ‘বিহান’-এর চরিত্রগুলো দর্শকদের কাছে পরিচিত মনে হবে। কারণ তারা দক্ষ ও দায়িত্বশীল হলেও পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং নিজেদের ভেতরের নানা প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতিনিয়ত সমঝোতা করেন। নিজের শক্তি ও সক্ষমতাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার মুহূর্তটিই চলচ্চিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করেন তিনি।

অক্সফামের ‘রাইজ অ্যান্ড লিড’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘বিহান’ নির্মাণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ব্যক্তি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নারীর নেতৃত্বের পথে থাকা বাধাগুলো চিহ্নিত করা এবং পরিবর্তনের জন্য কাজ করা।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহমুদা সুলতানা বলেন, শুধু নারীদের আত্মবিশ্বাসী বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিলেই নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে না। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানকেও পরিবর্তিত হতে হবে। নারীর সক্ষমতার স্বীকৃতি, যত্নের দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন, সমান সুযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভাগ করে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

‘বিহান’ সেই বৃহত্তর আলোচনাকেই সহজ ও মানবিক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের প্রতিদিনের বাস্তবতার সঙ্গে নারীর নেতৃত্বের প্রশ্নকে যুক্ত করে চলচ্চিত্রটি দেখাতে চেয়েছে—নারীরা শুধু নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখবেন না, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

চলচ্চিত্রটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন মো. শরিফুল ইসলাম। চিত্রনাট্য লিখেছেন শাওন কড়ি। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পী আশরাফ, নাজমুল হাসান, আদনান চৌধুরী, প্রিয়ন্ময়ী প্রিয় ও সায়ান রহমান। প্রযোজনা করেছে বক্সঅফিস। চিত্রগ্রহণ করেছেন সাহিল রনি ও হৃদয় সরকার। চলচ্চিত্রটির মিডিয়া পার্টনার ঢাকা ট্রিবিউন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারী নেতৃত্বের বাধা ও সম্ভাবনার গল্প ‘বিহান’

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নারীর নেতৃত্বের পথে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা বাধা, সংগ্রাম এবং এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিহান’। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টায় অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্রটি।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ‘রাইজ অ্যান্ড লিড’ উদ্যোগের ভাবনা থেকে নির্মিত ‘বিহান’ পরিচালনা করেছেন হেমন্ত সাদীক। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল ও নিশাত প্রিয়ম।

দুই কর্মজীবী নারী শিউলি ও রাখিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে চলচ্চিত্রটির গল্প। পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে গিয়ে তারা সামাজিক প্রত্যাশা, পারিবারিক যত্নের দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং ক্ষমতার সম্পর্কের মতো নানা বাধার মুখোমুখি হয়।

গল্পের মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে, সমাজে প্রচলিত ধারণা ও অসম দায়িত্ব কীভাবে নারীর পেশাগত সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে নিজের সক্ষমতা ও কণ্ঠকে নতুন করে আবিষ্কার করার মধ্য দিয়ে একজন নারীর জীবনে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।

পরিচালক হেমন্ত সাদীক বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে কোনো নাটকীয় ঘটনা বা বক্তৃতার মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করা হয়নি। বরং নারীর জীবনের প্রতিদিনের সাধারণ সংগ্রামগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, নেতৃত্বের সূচনা অনেক সময় নিজেকে চিনতে শেখার মধ্য দিয়েই হয়।

চলচ্চিত্রটির দৃশ্যভাষাতেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পরিচিত শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবেশ, স্বাভাবিক অভিনয় এবং চরিত্রগুলোর আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে গল্প এগিয়েছে। আত্ম-অন্বেষণের প্রতীক হিসেবে চলচ্চিত্রে বারবার আয়না ও প্রতিবিম্বের ব্যবহার করা হয়েছে। শেষ দৃশ্যের সবুজ ট্রাফিক সিগন্যাল সামনে এগিয়ে যাওয়া ও নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে।

অভিনেত্রী নিশাত প্রিয়ম বলেন, ‘বিহান’-এর চরিত্রগুলো দর্শকদের কাছে পরিচিত মনে হবে। কারণ তারা দক্ষ ও দায়িত্বশীল হলেও পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং নিজেদের ভেতরের নানা প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতিনিয়ত সমঝোতা করেন। নিজের শক্তি ও সক্ষমতাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার মুহূর্তটিই চলচ্চিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করেন তিনি।

অক্সফামের ‘রাইজ অ্যান্ড লিড’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘বিহান’ নির্মাণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ব্যক্তি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নারীর নেতৃত্বের পথে থাকা বাধাগুলো চিহ্নিত করা এবং পরিবর্তনের জন্য কাজ করা।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহমুদা সুলতানা বলেন, শুধু নারীদের আত্মবিশ্বাসী বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ার পরামর্শ দিলেই নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে না। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানকেও পরিবর্তিত হতে হবে। নারীর সক্ষমতার স্বীকৃতি, যত্নের দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন, সমান সুযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভাগ করে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

‘বিহান’ সেই বৃহত্তর আলোচনাকেই সহজ ও মানবিক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের প্রতিদিনের বাস্তবতার সঙ্গে নারীর নেতৃত্বের প্রশ্নকে যুক্ত করে চলচ্চিত্রটি দেখাতে চেয়েছে—নারীরা শুধু নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখবেন না, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

চলচ্চিত্রটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন মো. শরিফুল ইসলাম। চিত্রনাট্য লিখেছেন শাওন কড়ি। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পী আশরাফ, নাজমুল হাসান, আদনান চৌধুরী, প্রিয়ন্ময়ী প্রিয় ও সায়ান রহমান। প্রযোজনা করেছে বক্সঅফিস। চিত্রগ্রহণ করেছেন সাহিল রনি ও হৃদয় সরকার। চলচ্চিত্রটির মিডিয়া পার্টনার ঢাকা ট্রিবিউন।