ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেস অব টুমোরো ২০২৬ এর চ্যাম্পিয়ন রাইসা-লাবন

বিনোদন প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 31

ফেস অব টুমোরো ২০২৬’ এর চ্যাম্পিয়ন রাইসা-লাবন

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী খোঁজার প্রতিযোগিতা ‘Face of Tomorrow 2026’-এর প্রথম আসর। রাজধানীর International Convention City Bashundhara (ICCB)-তে গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘Grand Cinematic Gala’-তে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

সেরা ২০ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিচারকদের মূল্যায়নে চ্যাম্পিয়ন কাপল নির্বাচিত হয়েছেন রাইসা ও লাবন। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। প্রথম রানার্সআপ হয়েছেন সিফনা ও সৌমিক। তারা পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় রানার্সআপ মুনমুন ও তমাল পেয়েছেন ১ লাখ টাকা।

দেশের নতুন প্রজন্মের শিল্পী তৈরি এবং বাংলাদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও মানুষের গল্প সিনেমাটিক স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে Marketers 360 Degree আয়োজন করে ‘Face of Tomorrow 2026’। উদ্যোগটি বৃহত্তর ‘চলো ঘুরে আসি’A Bangladesh-Centric Travel, Culture & Community Movement-এর সঙ্গে যুক্ত।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশ থেকে ৫ হাজার ৪৭১টির বেশি আবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতার কার্যক্রম। একাধিক ধাপের অডিশন, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ ও Cinematic Bootcamp শেষে নির্বাচিত হন সেরা ২০ প্রতিযোগী।

শুধু প্রতিভা অন্বেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নির্বাচিত শিল্পীদের বাস্তব চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘চলো ঘুরে আসি’ Cinematic Travel Franchise-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থান ও গল্প নিয়ে নির্মিত হবে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এসব চলচ্চিত্রে নির্বাচিত শিল্পীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গালা অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন সঞ্চালক আইশা খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সেন্সর বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জল, অভিনেতা মিশা সওদাগর, নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েতসহ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতিযোগিতার প্রধান তিন বিচারক ছিলেন নির্মাতা অনিমেষ আইচ, অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নাজনীন হাসান চুমকি। অনুষ্ঠানে দেশের আরও ১০ জন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে ‘চলো ঘুরে আসি’-এর আওতায় নির্মিতব্য ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাতা, লোকেশন ও কাস্টিং পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

নতুন শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন অভিনেতা মিশা সওদাগর। তিনি ‘চলো ঘুরে আসি’-এর ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একটি সিনেমায় কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই অভিনয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েতও নতুনদের এই পথচলাকে দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গ্র্যান্ড গালায় ছিল নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও সিনেমাটিক পরিবেশনা। কোরিওগ্রাফার মোফাসসাল আলিফ ও ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার বুলবুল টুম্পার পরিবেশনা, বিশেষ মঞ্চনাট্য এবং Beatmosphere-এর বিটবক্সিং পারফরম্যান্স অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। পাশাপাশি Top 20 Participants-এর বিভিন্ন পরিবেশনাও দর্শকদের আকৃষ্ট করে।

আয়োজক Marketers 360 Degree জানিয়েছে, ‘Face of Tomorrow’-এর লক্ষ্য শুধু নতুন শিল্পী খুঁজে বের করা নয়, তাদের প্রশিক্ষণ, বাস্তব প্রযোজনায় কাজের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি Artist Development-এর মাধ্যমে পেশাদার শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলা।

একই সঙ্গে ‘চলো ঘুরে আসি’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত পর্যটনস্থান, মানুষ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, প্রকৃতি ও জীবনযাপনের গল্প চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের দর্শকদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

আয়োজকদের ভাষ্য, ‘Face of Tomorrow 2026’ নতুন শিল্পীদের জন্য শেষ নয়, বরং তাদের পেশাগত জীবনের নতুন যাত্রার সূচনা। আগামীতে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, TVC, OVC, ট্রাভেল কনটেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্বাচিত শিল্পীদের কাজের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

‘We Don’t Just Discover Artists, We Develop Them’—এই দর্শনকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে ভবিষ্যতেও কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফেস অব টুমোরো ২০২৬ এর চ্যাম্পিয়ন রাইসা-লাবন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী খোঁজার প্রতিযোগিতা ‘Face of Tomorrow 2026’-এর প্রথম আসর। রাজধানীর International Convention City Bashundhara (ICCB)-তে গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘Grand Cinematic Gala’-তে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

সেরা ২০ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিচারকদের মূল্যায়নে চ্যাম্পিয়ন কাপল নির্বাচিত হয়েছেন রাইসা ও লাবন। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। প্রথম রানার্সআপ হয়েছেন সিফনা ও সৌমিক। তারা পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় রানার্সআপ মুনমুন ও তমাল পেয়েছেন ১ লাখ টাকা।

দেশের নতুন প্রজন্মের শিল্পী তৈরি এবং বাংলাদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও মানুষের গল্প সিনেমাটিক স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে Marketers 360 Degree আয়োজন করে ‘Face of Tomorrow 2026’। উদ্যোগটি বৃহত্তর ‘চলো ঘুরে আসি’A Bangladesh-Centric Travel, Culture & Community Movement-এর সঙ্গে যুক্ত।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশ থেকে ৫ হাজার ৪৭১টির বেশি আবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতার কার্যক্রম। একাধিক ধাপের অডিশন, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ ও Cinematic Bootcamp শেষে নির্বাচিত হন সেরা ২০ প্রতিযোগী।

শুধু প্রতিভা অন্বেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নির্বাচিত শিল্পীদের বাস্তব চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘চলো ঘুরে আসি’ Cinematic Travel Franchise-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থান ও গল্প নিয়ে নির্মিত হবে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এসব চলচ্চিত্রে নির্বাচিত শিল্পীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গালা অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন সঞ্চালক আইশা খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সেন্সর বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জল, অভিনেতা মিশা সওদাগর, নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েতসহ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতিযোগিতার প্রধান তিন বিচারক ছিলেন নির্মাতা অনিমেষ আইচ, অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নাজনীন হাসান চুমকি। অনুষ্ঠানে দেশের আরও ১০ জন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে ‘চলো ঘুরে আসি’-এর আওতায় নির্মিতব্য ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাতা, লোকেশন ও কাস্টিং পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

নতুন শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন অভিনেতা মিশা সওদাগর। তিনি ‘চলো ঘুরে আসি’-এর ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একটি সিনেমায় কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই অভিনয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েতও নতুনদের এই পথচলাকে দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গ্র্যান্ড গালায় ছিল নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও সিনেমাটিক পরিবেশনা। কোরিওগ্রাফার মোফাসসাল আলিফ ও ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার বুলবুল টুম্পার পরিবেশনা, বিশেষ মঞ্চনাট্য এবং Beatmosphere-এর বিটবক্সিং পারফরম্যান্স অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। পাশাপাশি Top 20 Participants-এর বিভিন্ন পরিবেশনাও দর্শকদের আকৃষ্ট করে।

আয়োজক Marketers 360 Degree জানিয়েছে, ‘Face of Tomorrow’-এর লক্ষ্য শুধু নতুন শিল্পী খুঁজে বের করা নয়, তাদের প্রশিক্ষণ, বাস্তব প্রযোজনায় কাজের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি Artist Development-এর মাধ্যমে পেশাদার শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলা।

একই সঙ্গে ‘চলো ঘুরে আসি’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত পর্যটনস্থান, মানুষ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, প্রকৃতি ও জীবনযাপনের গল্প চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের দর্শকদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

আয়োজকদের ভাষ্য, ‘Face of Tomorrow 2026’ নতুন শিল্পীদের জন্য শেষ নয়, বরং তাদের পেশাগত জীবনের নতুন যাত্রার সূচনা। আগামীতে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, TVC, OVC, ট্রাভেল কনটেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্বাচিত শিল্পীদের কাজের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

‘We Don’t Just Discover Artists, We Develop Them’—এই দর্শনকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে ভবিষ্যতেও কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।