ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলশানে ক্লাবের হাতে মাঠ, ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 41

গুলশানে ক্লাবের হাতে মাঠ, ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ

গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের মাঠ ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব অর্থ আদায় করছে; এমন অভিযোগ জানার পরও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করেছেন মাঠ, পার্ক ও জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

বুধবার (১২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকারি মাঠ ও পার্ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়; এগুলো জনগণের সম্পদ। তাই এসব স্থানে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের খেলাধুলার সুযোগ দেওয়া বা সীমিত করা নাগরিক অধিকার হরণের শামিল।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন লেখক ও পরিবেশকর্মী ফিরোজ আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা রতনা, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাঈম উল হাসান ও আমিরুল রাজিব, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সাংবাদিক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক সুশান্ত সিনহা, বারসিকের নগর গবেষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা, গবেষক ও সাংবাদিক ইব্রাহীম খলিল এবং সিটিজেন নেটওয়ার্কের নির্বাহী আমিনুল ইসলাম।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট নিউ এজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রাজউক চেয়ারম্যান মাঠ ব্যবহারের জন্য ক্লাবের অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দেশের মাঠ ও পার্কগুলো নাগরিকদের বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের অভিযোগ, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যেও বিভিন্ন সময়ে রাজউক, সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্লাবটি সুবিধা ও সমর্থন পেয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, অতীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সম্প্রতি রাজউকও ওই ক্লাবের সঙ্গে পার্ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে চুক্তি করেছে। এতে সরকারি মাঠের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র ও সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে মাঠে ফলক স্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের এমন কোনো ক্লাবের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সদস্যপদ, সম্পৃক্ততা কিংবা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।

তাদের মতে, ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি মাঠ ও পার্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার রক্ষায় সরকারের উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ক্লাবের স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলো জনগণের কল্যাণে উন্মুক্ত রাখাই সরকারের দায়িত্ব। তাই সীমিতসংখ্যক ক্লাব সদস্যের স্বার্থে সরকারি মাঠ ও পার্ক ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার নিন্দা জানান তারা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক বা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের দখল বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে একাধিক রিট হয়েছে। এসব মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা এবং দীর্ঘদিনের দখলসংক্রান্ত অভিযোগের পরও প্রভাবশালী মহলের নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তারা সরকারি মাঠ ও পার্ককে বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে মুক্ত করে সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গুলশানে ক্লাবের হাতে মাঠ, ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের মাঠ ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব অর্থ আদায় করছে; এমন অভিযোগ জানার পরও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করেছেন মাঠ, পার্ক ও জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

বুধবার (১২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকারি মাঠ ও পার্ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়; এগুলো জনগণের সম্পদ। তাই এসব স্থানে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের খেলাধুলার সুযোগ দেওয়া বা সীমিত করা নাগরিক অধিকার হরণের শামিল।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন লেখক ও পরিবেশকর্মী ফিরোজ আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা রতনা, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাঈম উল হাসান ও আমিরুল রাজিব, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সাংবাদিক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক সুশান্ত সিনহা, বারসিকের নগর গবেষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা, গবেষক ও সাংবাদিক ইব্রাহীম খলিল এবং সিটিজেন নেটওয়ার্কের নির্বাহী আমিনুল ইসলাম।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট নিউ এজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রাজউক চেয়ারম্যান মাঠ ব্যবহারের জন্য ক্লাবের অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দেশের মাঠ ও পার্কগুলো নাগরিকদের বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের অভিযোগ, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যেও বিভিন্ন সময়ে রাজউক, সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্লাবটি সুবিধা ও সমর্থন পেয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, অতীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সম্প্রতি রাজউকও ওই ক্লাবের সঙ্গে পার্ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে চুক্তি করেছে। এতে সরকারি মাঠের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র ও সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে মাঠে ফলক স্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের এমন কোনো ক্লাবের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সদস্যপদ, সম্পৃক্ততা কিংবা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।

তাদের মতে, ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি মাঠ ও পার্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার রক্ষায় সরকারের উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ক্লাবের স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলো জনগণের কল্যাণে উন্মুক্ত রাখাই সরকারের দায়িত্ব। তাই সীমিতসংখ্যক ক্লাব সদস্যের স্বার্থে সরকারি মাঠ ও পার্ক ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার নিন্দা জানান তারা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক বা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের দখল বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে একাধিক রিট হয়েছে। এসব মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা এবং দীর্ঘদিনের দখলসংক্রান্ত অভিযোগের পরও প্রভাবশালী মহলের নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তারা সরকারি মাঠ ও পার্ককে বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে মুক্ত করে সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।