গান-কবিতা ও স্মৃতিচারণে কামাল লোহানীর ৯২তম জন্মদিন উদযাপন
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 30
গান-কবিতা এবং সহযোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ স্মৃতিচারণে ভাষা সংগ্রামী, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি কামাল লোহানী-এর ৯২তম জন্মদিন উদযাপন করলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৪টায় রাজধানী পুরানা পল্টনের কমরেড মনিসিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের মিলনায়নে উদীচীর আয়োজনে কামাল লোহানী-এর ৯২তম জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কামাল লোহানী-এর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন উদীচী কেন্দ্র্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ। করা হয় প্রদীপ প্রজ্জা¦লন। এরপর “কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ¦ালিয়ে তুমি ধরায় আসো” গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীরা। এরপর একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লির সদস্য শিখা সেন গুপ্তা এবং উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের আবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক সুমিত পাল। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের শিল্পী বিজয় বণিক। এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি শিবাণী ভট্টাচার্য্য-এর সভাপতিত্বে এ পর্বে আলোচনা করেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের প্রয়াত সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান-এর কন্যা সুপা সাদিয়া, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নিবাস দে, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এবং উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান।
আলোচনা পর্বে বক্তারা কামাল লোহানী-এর জীবন, আদর্শ ও প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর অনবদ্য ভূমিকা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “কামাল লোহানী তাঁর দীর্ঘ জীবনে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন ও কারাবরণ করেছেন। যুক্তফ্রন্টের অনুকূলে জনমত সংগঠন করেছেন। পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে পূর্ববাংলার নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে বরীন্দ্রবৈরিতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম করেছেন। ছয় দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, গণঅভ্যুত্থান, নির্বাচন ও মহান মুক্তিযুদ্ধÑসবখানেই ছিল তাঁর যথার্থ ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে রেখেছেন কার্যকর অবদান।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নিয়াজির আত্মসমর্পণের সংবাদ নিজে লিখে নিজেই পাঠ করেছেন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে”।
তিনি আরো বলেন, “২০১২ সালে উদীচীর সভাপতি হওয়ার পর সারাদেশে সংগঠনকে বিস্তৃত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া, গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলন শুরুর পর নেপথ্যে থেকে প্রতিদিন অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন কামাল লোহানী। উদীচীর নেতৃত্বে সা¤্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় কনভেনশন আয়োজন করার পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কামাল লোহানী। শুধু তাই নয়, উদীচীর সুবর্ণজয়ন্তীতে উদীচীর ইতিহাস গ্রন্থ প্রণয়ন, সোমেন চন্দ-এর স্মারক গ্রন্থ প্রণয়নসহ আরো অসংখ্য কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন কামাল লোহানী”।
অমিত রঞ্জন দে আরো বলেন, “সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করেছেন তিনি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিয়েছেন সাম্যবাদী লড়াইয়ের বীজ। প্রবীণ থেকে তরুণ– সব বয়সী মানুষের সাথেই তিনি বন্ধুর মতো মিশতে পারতেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্যবাদী, অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতেন কামাল লোহানী”।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি শিবাণী ভট্টাচার্য্য বলেন, “কামাল লোহানী ছায়ানট, ক্রান্তিÑদুই সংগঠনে থেকে নৃত্য করেছেন, আবৃত্তি করেছেন, অভিনয় করেছেন। আবার সঙ্গীতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তিনি আমৃত্যু সংস্কৃতির সঙ্গে এবং সংস্কৃতির সংগ্রামে সোচ্চার থেকেছেন”।
আলোচনা পর্বে অন্য বক্তারা বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে সকল প্রগতিশীল আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন কামাল লোহানী। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রতিবাদ, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন, গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনেই সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। উদীচীর সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে। একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং অভিভাবক হিসেবে সারাদেশের সংস্কৃতি কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কামাল লোহানী”।
উদীচী কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীদের কণ্ঠে “আজি শুভদিনে পিতার ভবনে অমৃত সদনে চলো যাই” গানটির সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় কামাল লোহানী-এর ৯২তম জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠান।





































