রবীন্দ্র পুরস্কার নৃপেন্দ্রলাল দাশ ও শিল্পী বুলবুল ইসলাম
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / 6
রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষণায় অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ এবং রবীন্দ্রসংগীত-চর্চায় শিল্পী বুলবুল ইসলাম পেলেন ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’।
সোমবার ( ১১ মে) বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমির আয়োজনে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকের হাতে পুষ্পস্তবক, সনদ, সম্মাননা-স্মারক ও পুরস্কারের অর্থমূল্য তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ও মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস এবং কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক রায়হান রাইন। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, রবীন্দ্রনাথের বিচিত্র-বিপুল সৃষ্টিজগত আমাদের বিস্মিত করে, বিশ্লেষণের পরিসরও তৈরি করে। আমাদের সমকালে অন্ধ রবীন্দ্র-ভক্তি ও রবীন্দ্রবিরোধিতার যে প্রাবল্য দেখা যায়, উভয়ই সাহিত্যবিচারের জন্য ক্ষতিকর। আমরা আশা করি, আজকের সেমিনারের মতো নানা আলোচনা-পর্যালোচনায় রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রতিকতম জ্ঞানকাণ্ডের আলোকে মুক্ত দৃষ্টিতে অবলোকন ও আবিষ্কারের পথরেখা খুঁজে পাব।
প্রশান্ত মৃধা বলেন, যদি রবীন্দ্রনাথের একটি গদ্যের বইয়ের নাম করতে হয়, যেখানে রবীন্দ্রনাথ প্রশ্নাতীতভাবে আলাদা, সে ক্ষেত্রে তাঁর সেরা যে কোনো উপন্যাসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গল্পগুচ্ছ। ভাষার অসাধারণত্ব ও সৌন্দর্য যেভাবে ঘরে-বাইরে, নৌকাডুবি ও গোরা’য় ধরা পড়ে, তা হয়তো গল্পগুচ্ছ-এ পড়ে না, কারণ প্রতিটি গল্প আলাদা, কিন্তু যদি পুরো গল্পগুচ্ছ-কে একটি উপন্যাস-পাঠ কল্পনা করে নেওয়া যায় তাহলে এটি রবীন্দ্রনাথের যে কোনও গদ্যগ্রন্থের চেয়ে সমৃদ্ধ। প্রতিটি ভিন্ন পাঠে এক-একটি গল্পের স্বাদ বদলে যায়। গল্পগুচ্ছ পড়াও যায় যে কোনো জায়গা থাকে, ভাষার অসাধারণ স্বচ্ছতা ও সৌন্দর্যের কারণে রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি উপন্যাসও একইভাবে পড়ে ওঠা সম্ভব। তিনি বলেন, যে কথাসাহিত্যিকের লেখা দ্বিতীয়বার ফিরে পড়া যায়, পড়তে হয় কিংবা পড়ার প্রয়োজন পড়ে, অনেকেই তাঁকে বড়ো লেখক মনে ক
রেন। কিন্তু যাঁর গোটা পঞ্চাশেক গল্প ও অন্তত পাঁচটি উপন্যাস প্রতিবার পড়ার সময়ে বাক্যেরও অর্থান্তর ঘটে, নতুন মনে হয়, তিনি মহৎ কথাসাহিত্যিক!
আলোচকদ্বয় বলেন, রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় যেমন বিপুলপ্রজ তেমনি অনন্য। কথাসাহিত্য তাঁর প্রিয় ও বিশিষ্ট ক্ষেত্র। কবিতা ও নাটকের মতোই ছোটোগল্প ও উপন্যাসে তিনি বারবার প্রকরণ পাল্টেছেন কিন্তু মানুষের প্রতি অঙ্গীকারের জায়গায় কখনো তাঁর বদল হয়নি। রবীন্দ্রজীবনের বাঁকগুলো পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখবো একই সময়ে রচিত তাঁর বিভিন্ন কথাসাহিত্য কী অসাধারণভাবে ব্যতিক্রমী ও নবায়িত! তারা বলেন, কথাসাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে অধুনাতম সাহিত্যতত্ত্বের আলোকে বিচার করলেও আমরা তাঁর নতুন তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র-পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ও শিল্পী বলেন, বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কার-প্রাপ্তি জীবনের অনন্য অর্জন। রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করে তাঁকে অন্বেষণ করে চলেছি; এ অন্বেষণের শেষ নেই কোনো, আছে আনন্দধারায় অনন্ত অবগাহন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য সৃষ্টির এত বছর পেরিয়ে আজও সমান প্রাসঙ্গিক। কথাসাহিত্যে নিজস্ব রূপরীতি অন্বেষণ ও আবিষ্কারের পাশাপাশি জনমানুষের জীবনকে সার্থকভাবে ধারণ করতে পেরেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকর্মের মূলে প্রণোদনা ছিল মাটিবর্তী মানুষ। ছোটোগল্প ও উপন্যাসে তিনি স্বদেশ ও বিশ্বচেতনাকে নতুন মাত্রা দান করেছেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী লাইসা আহমদ লিসা এবং ফারহিন খান জয়িতা। রবীন্দ্রকবিতার আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।




































