উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ববি প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / 17
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
রোববার (১১ মে) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর, অর্থ ও হিসাব শাখা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, জনসংযোগ অফিস এবং ডিন অফিসসহ একাধিক প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন কর্মচারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের নির্দেশনায় এসব তালা ঝোলানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এসময় বাধ্য হয়ে কার্যালয় ত্যাগ করেন রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ‘শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকরা সকাল ৯টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
পরে তারা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপাচার্যকে প্রশাসনিকভাবে অসহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে চাপের মুখে রেজিস্ট্রার তার কার্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর কর্মচারীরা একে একে বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, “আমাদের নির্দেশনায় প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝোলানো হয়েছে।”
তালা ঝোলানোর সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, “শিক্ষকদের নির্দেশনাতেই আমরা তালা ঝুলিয়েছি।”
আন্দোলনরত শিক্ষকদের পক্ষে ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ধীমান কুমার রায় বলেন, “আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাঁকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করবো না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন। ইতোমধ্যে তিনজন পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই আমরা আর তাঁকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করবো না।”
শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “সব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। কেউ আন্দোলন করলে ব্যক্তিগতভাবে কর্মবিরতি পালন করতে পারে। তবে অন্যের কাজে বাধা দেওয়া এবং কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”


































