শিল্পকলা একাডেমি দেশের গভীরে প্রোথিত: রিজভী
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 7
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরের গভীরে প্রোথিত একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান তার ভেতরের সাংস্কৃতিক সম্পদ সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী আয়োজনে বৃহস্পতিবার তিনি বৈচিত্র্যময় জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনা উপভোগ করেন।
রিজভী বলেন, বাংলা সংস্কৃতির শিকড় বহু পুরোনো ও বিস্তৃত। বাংলা সাল, লোকসাহিত্য ও আঞ্চলিক ঐতিহ্য একসময় সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত থাকলেও সময়ের সঙ্গে তার চর্চা কিছুটা কমে এসেছে।
বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে নতুন প্রজন্মের একটি অংশ স্থানীয় সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করা কোনোভাবেই অন্য কোনো বিশ্বাস বা ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাউল, আউলসহ বিভিন্ন ধারার প্রতি সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ লোকজ সংস্কৃতিকে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গেও যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।
আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল ইসলামও বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
পরে মারমা, গারো, চাকমা, সাঁওতাল, মনিপুরী, ম্রোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনায় বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জুম নৃত্য, বিজু নৃত্য, বাহা নৃত্যসহ নানা ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা দর্শকদের মনোযোগ কাড়ে।
একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় সন্ধ্যায় উত্তরীয় পরিয়ে অতিথিদের বরণ করে মূল আয়োজন শুরু হয়। একইদিন পুতুলনাট্য পরিবেশনা ও বৈশাখী মেলার অংশ হিসেবে আরও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই পাঁচ দিনের উৎসব শুক্রবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে।




































