ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 12

প্রবাসী আয়ের জোরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মোট রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ফলে ৩০ বিলিয়ন ডলারের স্তর ধরে রাখার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এই উন্নতি। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, যা বাজারে চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে।

চলতি এপ্রিলের প্রথমার্ধেও প্রবাসী আয়ের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে একদিনেই (১৫ এপ্রিল) এসেছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।

পুরো অর্থবছরের হিসাবেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশের কিছু ওপরে।

এদিকে বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে। ১৬ এপ্রিল চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। চলতি মাসে মোট ক্রয় দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার, আর অর্থবছরজুড়ে এ পরিমাণ ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, রেমিট্যান্স বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। হুন্ডির ওপর নির্ভরতা কমার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কারণ হিসেবে তারা আমদানি ব্যয়, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, শুধু রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ছাড়াল

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রবাসী আয়ের জোরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মোট রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ফলে ৩০ বিলিয়ন ডলারের স্তর ধরে রাখার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এই উন্নতি। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, যা বাজারে চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে।

চলতি এপ্রিলের প্রথমার্ধেও প্রবাসী আয়ের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে একদিনেই (১৫ এপ্রিল) এসেছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।

পুরো অর্থবছরের হিসাবেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশের কিছু ওপরে।

এদিকে বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে। ১৬ এপ্রিল চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। চলতি মাসে মোট ক্রয় দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার, আর অর্থবছরজুড়ে এ পরিমাণ ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, রেমিট্যান্স বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। হুন্ডির ওপর নির্ভরতা কমার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কারণ হিসেবে তারা আমদানি ব্যয়, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, শুধু রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।