যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরানি সেনাবাহিনী
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 8
ইরানের সেনাবাহিনী যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ ঠেকাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত মোতায়েনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, ইরানি সেনাবাহিনীর নির্বাহী বিষয়ক উপ-কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ বৃহস্পতিবার বলেন, শত্রুপক্ষ নতুন করে কোনো অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে আগেই নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী জবাব দেবে তেহরান। তার ভাষ্য, দেশের সর্বত্র সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিতভাবে মোতায়েন রয়েছে এবং উপযুক্ত প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষ সরাসরি সীমান্তের কাছাকাছি আসতে পারছে না। তাই দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করেই হামলার চেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় প্রতিরক্ষা কৌশল আরও জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পরবর্তী সাত মাসে ইরানের হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোন উৎপাদন প্রায় দশগুণ বেড়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তার মতে, এটি ড্রোন প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সমন্বিত অভিযানে এসব ড্রোন শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও নির্ভুল করতে সহায়তা করে।
দেশটির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন পুরোপুরি নিজস্ব সক্ষমতায় গড়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্য কোনো দেশের নেই।
আলিরেজা শেখ আরও বলেন, শত্রুকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করাই ইরানের কৌশলগত সাফল্যের একটি দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি ও কয়েকজন সামরিক কমান্ডার হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ৪০ দিন ধরে পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং উত্তেজনা আরও বাড়ে।
পরবর্তীতে উত্তেজনা কমাতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ছিল।
তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতা ছাড়াই তেহরানে ফিরে যায় ইরানি প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অনাস্থার কথাও জানানো হয়।


































