ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজি আমদানি কম, সিলিন্ডার ২ হাজারে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 56

এলপি গ্যাস সিলিন্ডার , ছবি সংগৃহীত

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ার সুযোগে নির্ধারিত দরের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খুচরা বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

এর মধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। বাজারে একই সিলিন্ডার কিনতে কোথাও কোথাও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানির উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনীয় কার্গো পাওয়া। আগে একটি নৌপথে সমস্যা হলে বিকল্প পথে কার্গো আনা সম্ভব হতো। এখন সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয়ের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণের সূত্রে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, কার্গোর প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে উঠেছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদক পর্যায়েও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। তারপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো দেশে না পৌঁছানোর কারণে সেপ্টেম্বরে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা অব্যাহত থাকলে এবং পর্যাপ্ত কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজি সংকট থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এলপিজি আমদানি কম, সিলিন্ডার ২ হাজারে

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ার সুযোগে নির্ধারিত দরের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে খুচরা বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

এর মধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। বাজারে একই সিলিন্ডার কিনতে কোথাও কোথাও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানির উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনীয় কার্গো পাওয়া। আগে একটি নৌপথে সমস্যা হলে বিকল্প পথে কার্গো আনা সম্ভব হতো। এখন সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয়ের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণের সূত্রে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, কার্গোর প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে উঠেছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদক পর্যায়েও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। তারপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো দেশে না পৌঁছানোর কারণে সেপ্টেম্বরে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা অব্যাহত থাকলে এবং পর্যাপ্ত কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজি সংকট থাকার আশঙ্কা রয়েছে।