শিশুবিবাহ ঠেকাতে মায়েদের নেতৃত্বে জোর
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11
কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার ও কমিউনিটির ভূমিকা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ সামনে রেখে ‘শিশুবিবাহ প্রতিরোধ ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষায় কমিউনিটি মায়েদের নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে নারী উন্নয়ন শক্তি এবং ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট।
২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার খিলগাঁও এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ২০ জন মাকে নিয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় নারী উন্নয়ন শক্তির রামপুরার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। এতে ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট এবং গ্লোবাল ওয়ার ফর সার্ভিসেস সহযোগিতা করে।
প্রশিক্ষণে বলা হয়, বাংলাদেশে শিশুবিবাহ এখনো কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিকাশের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের সূচকভিত্তিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছে। একই বয়সী ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। এছাড়া ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ বর্তমানে বিবাহিত।
প্রশিক্ষণে শিশুবিবাহের কারণ, ঝুঁকি ও ক্ষতিকর প্রভাবের পাশাপাশি কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা অব্যাহত রাখা, পরিবারে সচেতনতা তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিশুবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা শিশু শনাক্তকরণ, অভিভাবকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং কমিউনিটিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে তোলার বিষয়েও ব্যবহারিক অনুশীলন করানো হয়।
আয়োজকরা জানান, শিশুবিবাহের কারণে কিশোরীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, পারিবারিক সহিংসতা ও অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। এ কারণে পরিবার ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া মায়েরা নিজেদের পরিবার ও কমিউনিটিতে শিশুবিবাহ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন। তাঁরা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুবিবাহ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, স্থানীয় নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সংগঠনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ও শিশুদের কাছে সরাসরি পৌঁছে প্রয়োজনীয় সেবা এবং সরকারি সহায়তার সঙ্গে তাদের যুক্ত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর অংশীদারত্ব আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন, ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের নির্বাহী চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী সদস্য আব্দুল মমিন এবং গ্লোবাল ওয়ার ফর সার্ভিসেসের কর্মকর্তা সেলিনা খাতুন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা, কন্যাশিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার সুযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা জোরদারের দাবি জানান।
আয়োজক দুই সংগঠন মনে করে, শিশুবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে মায়েদের সচেতনতা, নেতৃত্ব ও স্থানীয় পর্যায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ভবিষ্যতেও সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ, স্থানীয় নেতৃত্ব, পরিবার ও কমিউনিটির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিশুবিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং নারীর নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংগঠন দুটি।


































