ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দখল-চাঁদাবাজিতে ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিকের ক্ষোভ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 8

রাড্ডা টীকাকেন্দ্র

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ভূমি দখল, বাড়িঘরে হামলা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের ৩৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে উল্লেখ করে তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমি দখল, বাড়ি দখল, চর ও খাসজমি দখল এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনা নিয়মিতভাবে উঠে আসছে। এসব ঘটনা কখনো প্রকাশ্যে, আবার কখনো রাতের আঁধারে ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

বিবৃতিতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। নাগরিকরা বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।

এর পরপরই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কয়েকশ মানুষ নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগের কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, গাবতলী-সদরঘাট বাইপাস সড়কের পাশে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের সাতমসজিদ হাউজিং সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় জমিতে থাকা স্থাপনা ও হাউজিংয়ের অফিসে ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ ১৫ লাখ টাকা, জমির দলিল, এসি, ফ্যান, দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ‘সরকার দলীয়’ চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় তাঁর স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পটুয়াখালীর চরবাংলা, নোয়াখালীর সদর উপজেলার ভাটিরটেক ও চরফ্যাশন, ভোলার চরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। জমিতে থাকা ফসলও রাতের আঁধারে লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন বড় ও ছোট শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। এর পাশাপাশি শিশু ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। কোনো কোনো এলাকাকে পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে উল্লেখ করে নাগরিকরা বলেন, এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই ইঙ্গিত বহন করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনমনে দৃঢ় ধারণা তৈরি হয়েছে যে এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল, পতিত সরকারের সশস্ত্র অনুসারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

নাগরিকরা বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে বিভিন্ন ঘটনায় কখনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিজস্ব বাহিনী, আবার কখনো ভাড়াটে লোকজন ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল নেই বলেও বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়।

তাঁদের ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও সন্ত্রাসের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সেই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় পুলিশ যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার জন্য শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সামগ্রিকভাবে সরকারেরও জবাবদিহির দায় রয়েছে। দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলা, দখল, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এবং তাদের দেশ-বিদেশের মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন; আনু মুহাম্মদ, প্রাক্তন অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন; খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি; শিরীন পারভিন হক, সদস্য, নারীপক্ষ; ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআই-বি; অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী ও অনারারি নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট; শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন; শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী; শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি; ড. সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. স্বপন আদনান, ভিজিটিং প্রফেসর, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স; তাসনিম সিরাজ মাহবুব, সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. নোভা আহমেদ, অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়; ড. ফিরদৌস আজিম, অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়; রেহনুমা আহমেদ, লেখক; সাঈদ ফেরদৌস, নৃবিজ্ঞানী ও লেখক; অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রমুখ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দখল-চাঁদাবাজিতে ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিকের ক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ভূমি দখল, বাড়িঘরে হামলা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের ৩৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে উল্লেখ করে তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমি দখল, বাড়ি দখল, চর ও খাসজমি দখল এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনা নিয়মিতভাবে উঠে আসছে। এসব ঘটনা কখনো প্রকাশ্যে, আবার কখনো রাতের আঁধারে ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

বিবৃতিতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। নাগরিকরা বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।

এর পরপরই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কয়েকশ মানুষ নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগের কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, গাবতলী-সদরঘাট বাইপাস সড়কের পাশে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের সাতমসজিদ হাউজিং সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় জমিতে থাকা স্থাপনা ও হাউজিংয়ের অফিসে ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ ১৫ লাখ টাকা, জমির দলিল, এসি, ফ্যান, দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ‘সরকার দলীয়’ চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় তাঁর স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পটুয়াখালীর চরবাংলা, নোয়াখালীর সদর উপজেলার ভাটিরটেক ও চরফ্যাশন, ভোলার চরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। জমিতে থাকা ফসলও রাতের আঁধারে লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন বড় ও ছোট শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। এর পাশাপাশি শিশু ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। কোনো কোনো এলাকাকে পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে উল্লেখ করে নাগরিকরা বলেন, এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই ইঙ্গিত বহন করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনমনে দৃঢ় ধারণা তৈরি হয়েছে যে এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল, পতিত সরকারের সশস্ত্র অনুসারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

নাগরিকরা বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে বিভিন্ন ঘটনায় কখনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিজস্ব বাহিনী, আবার কখনো ভাড়াটে লোকজন ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল নেই বলেও বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়।

তাঁদের ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও সন্ত্রাসের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সেই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় পুলিশ যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার জন্য শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সামগ্রিকভাবে সরকারেরও জবাবদিহির দায় রয়েছে। দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলা, দখল, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এবং তাদের দেশ-বিদেশের মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন; আনু মুহাম্মদ, প্রাক্তন অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন; খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি; শিরীন পারভিন হক, সদস্য, নারীপক্ষ; ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআই-বি; অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী ও অনারারি নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট; শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন; শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী; শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি; ড. সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. স্বপন আদনান, ভিজিটিং প্রফেসর, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স; তাসনিম সিরাজ মাহবুব, সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. নোভা আহমেদ, অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়; ড. ফিরদৌস আজিম, অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়; রেহনুমা আহমেদ, লেখক; সাঈদ ফেরদৌস, নৃবিজ্ঞানী ও লেখক; অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রমুখ।