তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের দাবি বিশিষ্টজনদের
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 143
নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপ আরোপের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, তামাকজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও কর কাঠামো সংস্কার করা হলে দেশে তামাক ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর মিরপুরে ইউসেপ কার্যালয়ে উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান উবিনীগ-এর উদ্যোগে এবং তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)-এর অংশগ্রহণে একটি সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় দেশের আটটি বিভাগের ২৩টি জেলা থেকে ৩০ জন তাবিনাজ সদস্য অংশ নেন।
কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাবিনাজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফরিদা আখতার, উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু এবং প্রকল্প সমন্বয়ক হাসানুল হাসিব আল গালিব। এছাড়া ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত তামাক কর কাঠামো উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আতাউর রহমান মাসুদ।
ফরিদা আখতার বলেন, দেশের দরিদ্র নারীরা বিশেষ করে ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য যেমন জর্দা ও গুলের ওপর নির্ভরশীল, যা মুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি জর্দা ও গুলের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি এবং সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দেন।
উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান তামাক কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল, যা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর নয়। তিনি একটি সহজ ও কার্যকর কর কাঠামো গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হাসানুল হাসিব আল গালিব জানান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৩৫.৩ শতাংশ। তিনি সিগারেটের বিভিন্ন স্তর একীভূত করে একটি নির্দিষ্ট ও উচ্চ কর আরোপের সুপারিশ করেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আতাউর রহমান মাসুদ তার উপস্থাপনায় বলেন, কার্যকর কর বৃদ্ধি করা হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত হবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা একই সময়ে তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।
তাবিনাজের নারী নেত্রীবৃন্দ সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ১০০ টাকা এবং ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দেন। তারা মনে করেন, এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তামাক ব্যবহার হ্রাসের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন বাজেটে এই সুপারিশগুলো বিবেচনা করা হলে দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
































