ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কা, জাতিসংঘের প্রস্তুতি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / 168

প্রতীকী ছবি : বাংলা অ্যাফেয়ার্স

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা প্রথম দেখেছিল বিশ্ব। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জাপানের হিরোশিমা শহরে এবং ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ০২ মিনিটে নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।

মুহূর্তেই লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটে, আর যারা বেঁচে ছিলেন—তাদের অনেকেই পরবর্তী বছরগুলোতে বিকিরণের প্রভাবে মৃত্যুবরণ করেন। সেই ঘটনার দীর্ঘ ছায়া এখনো ইতিহাসে রয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সাম্প্রতিক এক দাবি। জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা প্রায় ১২ বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব স্থগিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পদত্যাগ নোটিশে তিনি দাবি করেছেন, ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতির জন্য জাতিসংঘ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাফা লিখেছেন, মানুষ হয়তো এখনো পরিস্থিতির গভীরতা পুরোটা উপলব্ধি করতে পারছে না। তেহরান—প্রায় এক কোটি মানুষের শহর—এই সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে। তিনি উল্লেখ করেন, এই তথ্য প্রকাশ করতে গিয়ে নিজের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতে হয়েছে। নিউক্লিয়ার উইন্টার ঘটার আগেই পদত্যাগ করেছেন, যাতে কোনোভাবে মানবতাবিরোধী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না থাকতে হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘শক্তিশালী লবির’ স্বার্থে ভিন্নমত দমন করছেন। গাজায় যা ঘটছে তাকে গণহত্যা, লেবাননে সংঘটিত ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নির্মূলকরণ, আর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকার করতে তারা অনীহা দেখাচ্ছেন।

সাফার দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ভিন্নমত প্রকাশের চেষ্টা করায় তিনি ও তার পরিবার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে ‘ভুয়া প্রচারণা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি ঠেকাতে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন—তার ভাষায়, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই হয়তো পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএর নির্বাহী পরিচালক এবং ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘের ইকোসকে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদাপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এর আগে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখিও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে একটি পারমাণবিক ঘটনা। যত প্রস্তুতিই নেওয়া হোক, ক্ষতি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। এটি ঘটলে এর প্রভাব এই অঞ্চল ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে বহু দশক ধরে টিকে থাকবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কা, জাতিসংঘের প্রস্তুতি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা প্রথম দেখেছিল বিশ্ব। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জাপানের হিরোশিমা শহরে এবং ৯ আগস্ট সকাল ১১টা ০২ মিনিটে নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।

মুহূর্তেই লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটে, আর যারা বেঁচে ছিলেন—তাদের অনেকেই পরবর্তী বছরগুলোতে বিকিরণের প্রভাবে মৃত্যুবরণ করেন। সেই ঘটনার দীর্ঘ ছায়া এখনো ইতিহাসে রয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সাম্প্রতিক এক দাবি। জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা প্রায় ১২ বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব স্থগিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পদত্যাগ নোটিশে তিনি দাবি করেছেন, ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতির জন্য জাতিসংঘ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাফা লিখেছেন, মানুষ হয়তো এখনো পরিস্থিতির গভীরতা পুরোটা উপলব্ধি করতে পারছে না। তেহরান—প্রায় এক কোটি মানুষের শহর—এই সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে। তিনি উল্লেখ করেন, এই তথ্য প্রকাশ করতে গিয়ে নিজের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতে হয়েছে। নিউক্লিয়ার উইন্টার ঘটার আগেই পদত্যাগ করেছেন, যাতে কোনোভাবে মানবতাবিরোধী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না থাকতে হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘শক্তিশালী লবির’ স্বার্থে ভিন্নমত দমন করছেন। গাজায় যা ঘটছে তাকে গণহত্যা, লেবাননে সংঘটিত ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নির্মূলকরণ, আর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকার করতে তারা অনীহা দেখাচ্ছেন।

সাফার দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ভিন্নমত প্রকাশের চেষ্টা করায় তিনি ও তার পরিবার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে ‘ভুয়া প্রচারণা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি ঠেকাতে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন—তার ভাষায়, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই হয়তো পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএর নির্বাহী পরিচালক এবং ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘের ইকোসকে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদাপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এর আগে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখিও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে একটি পারমাণবিক ঘটনা। যত প্রস্তুতিই নেওয়া হোক, ক্ষতি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। এটি ঘটলে এর প্রভাব এই অঞ্চল ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে বহু দশক ধরে টিকে থাকবে।”