গ্যাস নেই দিনে, রাত জেগে রান্না
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 25
দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ পরিবারের রান্নাঘরে। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় অনেক গৃহিণীকে গভীর রাতে উঠে রান্না করতে হচ্ছে। কেউ আবার লাকড়ির চুলা, এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা ইনডাকশন চুলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে যেমন বেড়েছে সংসারের খরচ, তেমনি বদলে গেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
রাজধানীর জিগাতলার ট্যানারি মোড়ে অবস্থিত সন্দীপন স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিদিন দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। আগে সকাল ১০টার পর রান্না শুরু হলেও এখন দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় সেই সুযোগ নেই। কয়েক দিন বিদ্যালয়ের সামনে লাকড়ির চুলায় রান্না করা হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এখন গভীর রাতেই রান্না সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের বাবুর্চি রহিমা বেগম জানান, রাত ২টার দিকে রান্না শুরু করতে হয়। ভোর হওয়ার আগেই সব শেষ করতে হয়, কারণ এরপর গ্যাসের চাপ একেবারে কমে যায়। রাত জেগে প্রতিদিন রান্না করতে গিয়ে শারীরিকভাবে খুবই কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, একই চিত্র রাজধানীর অসংখ্য বাসাবাড়িতেও। দিনের বেলায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রাত বা ভোরে রান্না সেরে রাখছে। অনিদ্রা, ক্লান্তি ও শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে গৃহিণীদের মধ্যে। অনেক সময় রান্নার মাঝপথেই গ্যাস চলে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত করাও সম্ভব হচ্ছে না।
গ্যাস সংকটের কারণে কেউ হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন, কেউ আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে রান্না করছেন। অনেকেই ভবনের ছাদ বা বারান্দায় লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা ইনডাকশন চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় বেড়ে সংসারের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
একদিকে নিয়মিত লাইনের গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সিলিন্ডার, বিদ্যুৎ ও বাইরে থেকে খাবার কেনার অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা বিজৎ পাল জানান, গ্যাস সংকটের কারণে তিনি স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজে হোটেলে খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেয়ে পেটের সমস্যায় ভুগছেন। অন্যদিকে আদাবারের বাসিন্দা অরুণিমা জানান, গ্যাস না থাকায় তিনি শ্যামলীতে ভাইয়ের বাসায় গিয়ে এলপিজি চুলায় রান্না করে খাবার এনে সংরক্ষণ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। দুর্ঘটনার আগে প্রতিদিন প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামতে প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় বিশেষ যন্ত্রপাতিও এসে পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



































