‘আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে’
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 20
আজ দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: বাসস
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এটি শুধু বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গীকারই নয়, বরং বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনেরও ফল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে। মানুষ যেন নিজের ভোট নিজে দিতে পারে- এটাই ছিল দীর্ঘ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।”
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার শুরু থেকেই এটিকে সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করেছে।
মন্ত্রী জানান, হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি অংশকে অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং বাকি বিষয়গুলো সংসদের সিদ্ধান্তের জন্য রেখে দিয়েছে। পরে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখায় এখন সেটিই চূড়ান্ত আইনি অবস্থান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণে জনমত যাচাই (পাবলিক কনসালটেশন) এবং গণভোট (রেফারেন্ডাম) আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই এ ব্যবস্থার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতের রায় পর্যালোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। রায়ে উল্লেখিত ৫৪টি বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ হবে সরকারের প্রধান বিবেচ্য দলিল।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ যেসব জায়গায় অস্পষ্টতা বা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও সংশোধন করা হবে। তবে কোনো পরিবর্তনই জনগণের মতামত ছাড়া একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
জনমত গ্রহণের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ বিভিন্ন আইনের খসড়া প্রণয়নের সময় যেভাবে আইনজীবী, কূটনীতিক, মানবাধিকার সংগঠন ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, একইভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও দেশের সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি আরও জানান, সংশোধিত মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে নতুন সাংবিধানিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।



































