ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধী অধিকার আইনে আসছে সংশোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / 10

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পথে: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও করণীয়’ শীর্ষক অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে ব্র্যাক ও বি-স্ক্যান।

ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। গত চার মাসেই সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মসংস্থানে সক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির বিকল্প সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে পৃথক একটি বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি এবং আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন থাকলেও বাস্তবায়নে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ইতিবাচক অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা গেলেও তা কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের ডিসএবিলিটি ইনক্লুশন ইউনিটের লিড জাহিদুল কবীর। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে। ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন হলেও বাস্তবায়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনায় ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নে উদ্যোগ সীমিত। অপর্যাপ্ত বাজেট ও জবাবদিহির অভাবও বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সংলাপে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজে দৃষ্টিভঙ্গিগত, পরিবেশগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা বাধার মুখোমুখি হন। তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করে কার্যকর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সংলাপে ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক অরিঞ্জয় ধর, বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব, ব্র্যাকের মাসুমা বিল্লাহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রতিবন্ধী অধিকার আইনে আসছে সংশোধন

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পথে: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও করণীয়’ শীর্ষক অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে ব্র্যাক ও বি-স্ক্যান।

ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। গত চার মাসেই সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মসংস্থানে সক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির বিকল্প সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে পৃথক একটি বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি এবং আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন থাকলেও বাস্তবায়নে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ইতিবাচক অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা গেলেও তা কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের ডিসএবিলিটি ইনক্লুশন ইউনিটের লিড জাহিদুল কবীর। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে। ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন হলেও বাস্তবায়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনায় ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নে উদ্যোগ সীমিত। অপর্যাপ্ত বাজেট ও জবাবদিহির অভাবও বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সংলাপে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজে দৃষ্টিভঙ্গিগত, পরিবেশগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা বাধার মুখোমুখি হন। তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করে কার্যকর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সংলাপে ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক অরিঞ্জয় ধর, বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব, ব্র্যাকের মাসুমা বিল্লাহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।