সহজ ঋণ চান উপকূলবাসী
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / 20
জলবায়ু অর্থায়নের স্থানীয়করণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ শর্তে ঋণ, নারী নেতৃত্বাধীন জলবায়ু অভিযোজন ও সবুজ অর্থনীতিতে বিশেষ বিনিয়োগ এবং জলবায়ু অধিকার রক্ষাকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন (সিবিও), যুব সংগঠন ও নারীরা।
বৃহস্পতিবার ( ২৫ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে দুই দিনব্যাপী সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন (সিবিও) সামিট ২০২৬-এর ঘোষণাপত্রে সরকারের প্রতি এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এ সামিটের আয়োজন করে। এতে আর্থিক সহায়তা দেয় অস্ট্রেলিয়ান এইড।
সামিটে জলবায়ু ন্যায়বিচার, স্থানীয় নেতৃত্ব, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব অংশগ্রহণ, জলবায়ু অর্থায়নের স্থানীয়করণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে একটি ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেন, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়, সমন্বিত কর্মসূচি প্রয়োজন। একাধিক প্রকল্পের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বড় সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান সম্ভব।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন–তাদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সবকিছু নিয়ে কাজ করছেন। এটা প্রোগ্রাম। এটা একক কোন প্রকল্প দিয়ে সমাধান হবে না। প্রকল্পের একটা নির্দিষ্ট ফোকাস থাকে। যখন পাঁচটা প্রকল্প নিবেন, তখন হয়তো পাঁচটা মিলে একটা প্রোগ্রাম অর্জন করতে পারবেন। এবং তখন ফোকাসগুলো একসাথে পুঞ্জিভূতভাবে একটা সমস্যার সমাধান করবে।’
স্থানীয় পর্যায়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায় এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়, সে ক্ষেত্রে কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন ও যুব সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তরুণ ও স্থানীয় সংগঠনগুলোকে আরও সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জোনায়েদ সাকি।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের হেড অব ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস রাইটস ড. মোহাম্মদ ইমরান হাসান বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও একাডেমিক জ্ঞানের সমন্বয়ে জলবায়ু অভিযোজনের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়েছে। তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে ঘোষণাপত্রের বিষয়ে মতামত দেওয়া ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স-এর চেয়ারপারসন সামিয়া আফরিন বলেন, ৫০টিরও বেশি সংগঠনের মতামত ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এসব সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
সমাপনী দিনের শুরুতে বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ উপস্থাপন করে।
পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের ১২টি সিবিও পরিবেশবান্ধব পণ্য ও স্থানীয় উদ্যোগ নিয়ে প্রদর্শনী স্টল স্থাপন করে।
ঘোষণাপত্রে ১০ দফা দাবি
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জীবিকা সংকট ও বাস্তুচ্যুতির মতো বহুমাত্রিক জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অথচ তারাই স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে টেকসই সমাধান তৈরি করে চলেছে। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণ, নারী ও যুবদের নেতৃত্বকে স্বীকৃতি ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
এতে সরকারের প্রতি ১০টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—কমিউনিটিভিত্তিক ও যুব সংগঠনের জন্য সহজ ও বিকেন্দ্রীভূত নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু, জলবায়ু অর্থায়নে স্থানীয়করণ এবং স্থানীয় সংগঠন ও নারীদের সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ, উপকূলীয় এলাকায় সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সেবা, সিবিওর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারী ও যুবদের কার্যকর অংশগ্রহণ, যুব গবেষণা ও স্থানীয় জ্ঞানকে জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা, নারী নেতৃত্বাধীন জলবায়ু অভিযোজন ও সবুজ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু অধিকার রক্ষাকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া, ভূমি, বন, জল ও উপকূলীয় সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলে—এমন সব উন্নয়ন ও জলবায়ু প্রকল্পে Free, Prior and Informed Consent (FPIC) নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটির প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার সুরক্ষার দাবি জানানো হয়।
সমাপনী অঙ্গীকার, সামিট শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা, নারী ও যুব নেতৃত্ব বিকাশ, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগ সম্প্রসারণ, গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা, জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, স্থানীয় নেতৃত্ব, লিঙ্গসমতা, যুব অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই একযোগে কাজ করবে।
এর আগে বুধবার সামিটের প্রথম দিনে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ডায়ালগ’ শীর্ষক অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে ফেমিনিস্ট ক্লাইমেট লিডারশিপ, ইউথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড দেয়ার কন্ট্রিবিউশন এবং লোকালি লেড অ্যাকশন অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন স্ট্র্যাটেজিস বিষয়ে তিনটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণে সহায়ক তথ্য তুলে ধরতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।


































