জলবায়ু নেতৃত্বে কিশোরীদের এগিয়ে নিতে ‘দুর্বার কন্যা’ উদ্বোধন
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / 9
জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কিশোরী ও যুব নারী্দের নেতৃত্ব, সক্ষমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে ‘দুর্বার কন্যা’ প্রোগ্রাম মডেল।
বৃহস্পতিবার ( ২৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, কূটনীতিক, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যুবনেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। জলবায়ু অভিযোজন ও স্থানীয় নেতৃত্বভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠানে সবাই একাত্মতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এমপি, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান, বাংলাদেশে রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এইচ ই.হকন আরাল্ড গুলব্রানসেন এবং জ্যানিস হুসাইন, জার্মান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডেপুটি হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ।
বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP) ২০২৩–২০৫০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা ‘দুর্বার কন্যা’ প্রোগ্রাম মডেলটি কিশোরী ও যুবনারীদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং নিজ নিজ এলাকায় মানুষকে আরও সচেতন ও প্রস্তুত করে তুলতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ ও দক্ষতা গড়ে তুলবে।
স্বাগত বক্তব্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কিশোরীরা শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জলবায়ু বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী একটি সফল উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তবে ভবিষ্যতের জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেই কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে এবং সেখানে কিশোরী ও যুব নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “কিশোরীরা শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের শিকার নয়; তারা জলবায়ু সমাধানেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং নেতৃত্বদাতা।
‘দুর্বার কন্যা’ প্রোগ্রাম মডেল ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান কমিউনিটি পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে তরুণদের, বিশেষ করে কিশোরীদের, সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “শুধু অবকাঠামো ও প্রযুক্তি দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সচেতন, দক্ষ ও ক্ষমতায়িত মানুষ, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া নতুন নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
বাংলাদেশে রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এইচ ই. হকন আরাল্ড গুলব্রানসেন বলেন, “জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের, বিশেষ করে যুব নারীদের, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং জলবায়ু কর্মকাণ্ডে অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শক্তিশালী ও টেকসই কমিউনিটি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘দুর্বার কন্যা’ প্রোগ্রাম মডেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার যুব নারীদের জলবায়ু দূতদের অভিজ্ঞতা বিনিময়। নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তারা তুলে ধরেন কীভাবে কিশোরীরা স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।
‘দুর্বার কন্যা’ প্রোগ্রাম মডেলটি জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নেতৃত্ব বিকাশ, স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি যুব নারীদের স্থানীয় সরকার ও বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তারা কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু–সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।
বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ ক্রমাগত বাড়তে থাকায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল এক নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠান শেষে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীজনরা কিশোরী ও যুব নারীদের জলবায়ু কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের নেতৃত্ব বিকাশে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



































