ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ নিয়ন্ত্রণে অনড় ইরান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / 22

ছবি সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। শুক্রবার দেশটি জানায়, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ভূমিকা উপেক্ষা করে প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তেহরানের এ বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য দেশের যৌথ বিবৃতির একদিন পর। ওই বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইরানের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে অবাধ ও শর্তহীন নৌযান চলাচলের আহ্বান জানানো হয়।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ‘বৈরী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতি’ অব্যাহত না রাখার আহ্বান জানায়।

এদিকে ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এভার লাভলি নামের একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান এভারগ্রিন মেরিন জানিয়েছে, এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং পরে জাহাজটি আবারও যাত্রা শুরু করে।

রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, জাহাজটিতে ইরান থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান। ইরানের প্রণালি কর্তৃপক্ষ শুধু জানিয়েছে, অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে চলাচল করলে তার দায় জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী ও অধিনায়কের।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

এদিকে জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ওমানের ঘটনার পর সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সহায়তার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর আগে সংস্থাটি ও ওমান যৌথভাবে প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে বিকল্প রুট চালুর ঘোষণা দিয়েছিল, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল তেহরান।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন, আর্থিক প্রণোদনা এবং লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো বহাল রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হরমুজ নিয়ন্ত্রণে অনড় ইরান

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। শুক্রবার দেশটি জানায়, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ভূমিকা উপেক্ষা করে প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তেহরানের এ বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য দেশের যৌথ বিবৃতির একদিন পর। ওই বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইরানের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে অবাধ ও শর্তহীন নৌযান চলাচলের আহ্বান জানানো হয়।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ‘বৈরী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতি’ অব্যাহত না রাখার আহ্বান জানায়।

এদিকে ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এভার লাভলি নামের একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান এভারগ্রিন মেরিন জানিয়েছে, এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং পরে জাহাজটি আবারও যাত্রা শুরু করে।

রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, জাহাজটিতে ইরান থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান। ইরানের প্রণালি কর্তৃপক্ষ শুধু জানিয়েছে, অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে চলাচল করলে তার দায় জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী ও অধিনায়কের।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

এদিকে জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ওমানের ঘটনার পর সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সহায়তার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর আগে সংস্থাটি ও ওমান যৌথভাবে প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে বিকল্প রুট চালুর ঘোষণা দিয়েছিল, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল তেহরান।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন, আর্থিক প্রণোদনা এবং লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো বহাল রয়েছে।