মিয়ানমারকে নিয়ে ইকোনমিক করিডোরের প্রস্তাব চীনের
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 10
বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় ইকোনমিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় দুপুরে শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তারা জানান, দুই নেতার বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে। শি জিনপিং বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্রিকস ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) যোগ দিতে চাইলে বেইজিং ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও অন্তত তিন বছর শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধাসহ বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর মধ্যে দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ১৩টি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি এবং বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের সম্মতির ভিত্তিতে শিগগিরই ১৬ দফা যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও দেশের নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে যুক্ত করে একটি ইকোনমিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব এসেছে। এ করিডোরের লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং বহুমুখী পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে যেকোনো সংলাপে মধ্যস্থতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।
এছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে নিয়মিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আওতায় দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর হয়েছে।
চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে তার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।




































