ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের দাবিতে স্বাক্ষর অভিযান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 198

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাক্ষর অভিযান চালানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

 

অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে সিগনেচার ক্যাম্পেইন করেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁও কলেজ প্রাঙ্গণে নারী মৈত্রী ও তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী স্বাক্ষরের মাধ্যমে তাদের সমর্থন জানান।

আয়োজকেরা জানান, সংগৃহীত স্বাক্ষরসমূহ শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর-এ জমা দেওয়া হবে, যাতে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে রূপান্তরের বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন তেজগাঁও কলেজ হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ. কে. এম. খুরশীদ আলম।

কর্মসূচিতে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জনেরও বেশি। পাশাপাশি তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৩৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে কার্যত একটি ‘তামাক মহামারী’তে রূপ দিয়েছে।

এই বাস্তবতায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়।

অনুমোদিত অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞার আওতায় নিকোটিন পাউচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপানের পাশাপাশি সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টসের ব্যবহার, উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে এবং ‘পাবলিক প্লেস’ ও ‘পাবলিক পরিবহণ’-এর সংজ্ঞা ও অধিক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শনসহ ইন্টারনেট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে সব ধরনের তামাক বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকায় মুদ্রণের বিধানও সংযোজন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এখন নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো এটি আইনে রূপান্তর করা। একটি তামাকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি পাস করার দাবিতেই আমাদের এই সিগনেচার ক্যাম্পেইন।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তামাক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের দাবিতে স্বাক্ষর অভিযান

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে সিগনেচার ক্যাম্পেইন করেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁও কলেজ প্রাঙ্গণে নারী মৈত্রী ও তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী স্বাক্ষরের মাধ্যমে তাদের সমর্থন জানান।

আয়োজকেরা জানান, সংগৃহীত স্বাক্ষরসমূহ শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর-এ জমা দেওয়া হবে, যাতে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে রূপান্তরের বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন তেজগাঁও কলেজ হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ. কে. এম. খুরশীদ আলম।

কর্মসূচিতে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জনেরও বেশি। পাশাপাশি তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৩৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে কার্যত একটি ‘তামাক মহামারী’তে রূপ দিয়েছে।

এই বাস্তবতায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়।

অনুমোদিত অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞার আওতায় নিকোটিন পাউচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপানের পাশাপাশি সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টসের ব্যবহার, উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে এবং ‘পাবলিক প্লেস’ ও ‘পাবলিক পরিবহণ’-এর সংজ্ঞা ও অধিক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শনসহ ইন্টারনেট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে সব ধরনের তামাক বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকায় মুদ্রণের বিধানও সংযোজন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এখন নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো এটি আইনে রূপান্তর করা। একটি তামাকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি পাস করার দাবিতেই আমাদের এই সিগনেচার ক্যাম্পেইন।”