ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ-জ্বালানি বোর্ডে অনভিজ্ঞ আমলাদের দাপট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 13

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন কোম্পানির বোর্ডে বিপুল সংখ্যক আমলার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা একাধিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খাতভিত্তিক অভিজ্ঞতার অভাব থাকা সত্ত্বেও অনেক আমলা একাধিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন, যা কার্যকর করপোরেট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের অধীন ৩৭টি কোম্পানিতে মোট ৩০৬ জন বোর্ড সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ও পরিচালকের ১৬৭টি পদে দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমান ও সাবেক আমলারা। অনেকেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে একসঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন। কেউ কেউ চার থেকে আটটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করছেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে তদারকি করা সম্ভব।

নথিপত্রে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বাইরে দায়িত্ব পালনকারী বেশ কয়েকজন সচিবও বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এতে বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য স্পষ্ট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের ১৫টি কোম্পানির বোর্ডে ১৩৬ সদস্যের মধ্যে ৫৮ জন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। অন্যদিকে পেট্রোবাংলার ১৪টি কোম্পানির ১০৮ বোর্ড সদস্যের ৭০ জন এবং বিপিসির আটটি প্রতিষ্ঠানের ৬২ সদস্যের মধ্যে ৩৯ জনই আমলা।

খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বোর্ডে পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব সীমিত হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোম্পানির নিজস্ব কর্মকর্তারা পরিচালনা পর্ষদে যথাযথ গুরুত্ব পান না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রাষ্ট্রীয় কোম্পানির বোর্ডে সাধারণত খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, স্বাধীন পরিচালক ও পেশাদার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বেশি থাকে। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামোও সেই ধারা অনুসরণ করে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে বোর্ডগুলোতে পেশাদার ও খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি বোর্ডে অনভিজ্ঞ আমলাদের দাপট

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন কোম্পানির বোর্ডে বিপুল সংখ্যক আমলার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা একাধিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খাতভিত্তিক অভিজ্ঞতার অভাব থাকা সত্ত্বেও অনেক আমলা একাধিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন, যা কার্যকর করপোরেট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের অধীন ৩৭টি কোম্পানিতে মোট ৩০৬ জন বোর্ড সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ও পরিচালকের ১৬৭টি পদে দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমান ও সাবেক আমলারা। অনেকেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে একসঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন। কেউ কেউ চার থেকে আটটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করছেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে তদারকি করা সম্ভব।

নথিপত্রে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বাইরে দায়িত্ব পালনকারী বেশ কয়েকজন সচিবও বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এতে বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য স্পষ্ট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের ১৫টি কোম্পানির বোর্ডে ১৩৬ সদস্যের মধ্যে ৫৮ জন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। অন্যদিকে পেট্রোবাংলার ১৪টি কোম্পানির ১০৮ বোর্ড সদস্যের ৭০ জন এবং বিপিসির আটটি প্রতিষ্ঠানের ৬২ সদস্যের মধ্যে ৩৯ জনই আমলা।

খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বোর্ডে পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব সীমিত হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোম্পানির নিজস্ব কর্মকর্তারা পরিচালনা পর্ষদে যথাযথ গুরুত্ব পান না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রাষ্ট্রীয় কোম্পানির বোর্ডে সাধারণত খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, স্বাধীন পরিচালক ও পেশাদার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বেশি থাকে। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামোও সেই ধারা অনুসরণ করে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে বোর্ডগুলোতে পেশাদার ও খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।