হাম প্রাদুর্ভাবে শিশু ঝুঁকিতে, অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 87
দেশে হাম পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রতিরোধযোগ্য রোগ হয়েও শিশুদের এভাবে আক্রান্ত হওয়া তাদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্ন তুলছে—বলছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
দেশজুড়ে চলমান হাম সংক্রমণকে শিশুদের জন্য গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে এমজেএফ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিশুদের জীবন ও সুস্থতার অধিকারের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে।
তাদের মতে, বিলম্ব না করে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য পরিস্থিতির গভীরতা কিছুটা স্পষ্ট করে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৩৩৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৯ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত করা গেছে। একই সময়ে নিশ্চিত আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর উপসর্গভিত্তিক সন্দেহজনক ক্ষেত্রে মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৪। সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়—এগুলো এক ধরনের সতর্ক সংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ২০ এপ্রিল থেকে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে বাস্তবতায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। পরীক্ষার কিটের ঘাটতি এবং দীর্ঘ সময় ধরে টিকা আমদানি বন্ধ থাকার বিষয়টি কার্যক্রমকে ধীর করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা জানিয়েছে এমজেএফ। বিষয়টি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও দৃশ্যমান করে।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও শিশুদের এমন ঝুঁকিতে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি তাদের বেঁচে থাকা, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং সুরক্ষার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত টিকা সরবরাহ, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।
এমজেএফ মনে করে, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেবল নীতিগত অঙ্গীকার নয়, সাংবিধানিক দায়িত্বও বটে। কিন্তু সময়মতো টিকাদান, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং নজরদারির ঘাটতি প্রাদুর্ভাবকে দীর্ঘায়িত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রতি কয়েকটি পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি—দ্রুত পর্যাপ্ত হাম-রুবেলা টিকা সংগ্রহ, টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কিট সরবরাহ, আক্রান্তদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
সবশেষে এমজেএফ বলছে, শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহায়তা করতে সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে প্রস্তুত রয়েছে তারা, একই সঙ্গে সব শিশুর জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।

































