ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বপ্ন ভাঙল ইতালির, বিশ্বকাপে কঙ্গো-ইরাক

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 96

বিশ্বকাপের মঞ্চে এক যুগ না খেলার আক্ষেপ ঘোচানোর নিঃশ্বাস দূরত্বে ছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। কিন্তু সেই দূরত্বটা আর পাড়ি দিতে পারেনি জেনারো গাত্তুসোর শিষ্যরা। বাছাইয়ে প্লে-অফের ফাইনালে মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে ইতালি। তাতে নিশ্চিত হয়, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। অপরদিকে দীর্ঘ ৫২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) জাতীয় ফুটবল দল জায়গা করে নিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে। এছাড়া দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল ইরাকও।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এমন ট্র্যাজেডির রাতে ইতালির নামের পাশে যোগ হয়েছে আরও একটা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। ইতালিই প্রথম সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, যারা টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করছে। আর ইতালির বর্তমান দলের কারোরই বিশ্বকাপ খেলার কোনো অভিজ্ঞতা থাকল না।

প্রায় নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে দলকে রক্ষা করতে ক্রোয়েশিয়া মিডফিল্ডার আমার মেমিচিকে ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাস্তোনি। ইতালি ১০ জনের দল হয়ে পড়লে পেয়ে বসে বসনিয়া। দুই প্রান্ত ধরে একের পর এক ক্রস করতে থাকে দলটি। টানা আক্রমণের ফলে ৭৯ মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখাও পেয়ে যায় বসনিয়া। এতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আর কোনো গোল না হলে ম্যাচ যায় টাইব্রেকারে।

পেনাল্টি শুটআউটে ইতালির হয়ে প্রথম ও তৃতীয় শটটি মিস করেন এসপোসিতো ও ক্রিস্তানতে। অন্যদিকে চারটি শট নেওয়া বসনিয়া চারটিই জালে জড়ায়। তাতে ইতালির আর শেষ দুটো পেনাল্টি শট নেওয়ার দরকার পড়েনি।

দীর্ঘ ৫২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) জাতীয় ফুটবল দল জায়গা করে নিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জ্যামাইকা জাতীয় ফুটবল দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে না ওঠার দীর্ঘ খরা কাটিয়েছে দলটি। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে ফিরছে কঙ্গো।

মঙ্গলবার মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে একমাত্র গোলটি আসে অতিরিক্ত সময়ে। গোলদাতা অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে ম্যাচের ১০০তম মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বল জালে জড়ান।

অন্যদিকে ম্যাচে সমতা ফেরাতে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি জ্যামাইকা। ফলে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপে জায়গা পায় কঙ্গো।

দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল ইরাক। আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নাম লেখাল এশিয়ান দেশটি।

ম্যাচের শুরুর ৯ মিনিটে ইরাকের একটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন বলিভিয়ান গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারা। তবে এক মিনিট পরেই আল-হামাদির চমৎকার হেডে লিড নেয় ইরাক। গোল খেয়ে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে বলিভিয়া। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে মইসেস পানিয়াগুয়ার গোলে সমতায় ফেরে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনের হাত ধরে। বদলি খেলোয়াড় মার্কো ফারজির পাস থেকে বক্সে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে বলিভিয়া সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ইরাককে চেপে ধরলেও গোলের দেখা পায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্বপ্ন ভাঙল ইতালির, বিশ্বকাপে কঙ্গো-ইরাক

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে এক যুগ না খেলার আক্ষেপ ঘোচানোর নিঃশ্বাস দূরত্বে ছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। কিন্তু সেই দূরত্বটা আর পাড়ি দিতে পারেনি জেনারো গাত্তুসোর শিষ্যরা। বাছাইয়ে প্লে-অফের ফাইনালে মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে ইতালি। তাতে নিশ্চিত হয়, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। অপরদিকে দীর্ঘ ৫২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) জাতীয় ফুটবল দল জায়গা করে নিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে। এছাড়া দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল ইরাকও।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এমন ট্র্যাজেডির রাতে ইতালির নামের পাশে যোগ হয়েছে আরও একটা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। ইতালিই প্রথম সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, যারা টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করছে। আর ইতালির বর্তমান দলের কারোরই বিশ্বকাপ খেলার কোনো অভিজ্ঞতা থাকল না।

প্রায় নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে দলকে রক্ষা করতে ক্রোয়েশিয়া মিডফিল্ডার আমার মেমিচিকে ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাস্তোনি। ইতালি ১০ জনের দল হয়ে পড়লে পেয়ে বসে বসনিয়া। দুই প্রান্ত ধরে একের পর এক ক্রস করতে থাকে দলটি। টানা আক্রমণের ফলে ৭৯ মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখাও পেয়ে যায় বসনিয়া। এতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আর কোনো গোল না হলে ম্যাচ যায় টাইব্রেকারে।

পেনাল্টি শুটআউটে ইতালির হয়ে প্রথম ও তৃতীয় শটটি মিস করেন এসপোসিতো ও ক্রিস্তানতে। অন্যদিকে চারটি শট নেওয়া বসনিয়া চারটিই জালে জড়ায়। তাতে ইতালির আর শেষ দুটো পেনাল্টি শট নেওয়ার দরকার পড়েনি।

দীর্ঘ ৫২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) জাতীয় ফুটবল দল জায়গা করে নিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জ্যামাইকা জাতীয় ফুটবল দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে না ওঠার দীর্ঘ খরা কাটিয়েছে দলটি। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে ফিরছে কঙ্গো।

মঙ্গলবার মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে একমাত্র গোলটি আসে অতিরিক্ত সময়ে। গোলদাতা অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে ম্যাচের ১০০তম মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বল জালে জড়ান।

অন্যদিকে ম্যাচে সমতা ফেরাতে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি জ্যামাইকা। ফলে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপে জায়গা পায় কঙ্গো।

দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল ইরাক। আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নাম লেখাল এশিয়ান দেশটি।

ম্যাচের শুরুর ৯ মিনিটে ইরাকের একটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন বলিভিয়ান গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারা। তবে এক মিনিট পরেই আল-হামাদির চমৎকার হেডে লিড নেয় ইরাক। গোল খেয়ে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে বলিভিয়া। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে মইসেস পানিয়াগুয়ার গোলে সমতায় ফেরে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনের হাত ধরে। বদলি খেলোয়াড় মার্কো ফারজির পাস থেকে বক্সে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে বলিভিয়া সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ইরাককে চেপে ধরলেও গোলের দেখা পায়নি।