স্কুলে চলন্ত ফ্যান পড়ে শিক্ষার্থী আহত
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৪২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 5
পাবনা পুলিশ লাইনস স্কুলে ক্লাস চলাকালীন চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে মাথায় পড়ে তামজিদ (১০) নামের পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় ভবনের দ্বিতীয় তলার ৪০৩ নম্বর কক্ষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। আহত তামজিদ পাবনা পৌর সদরের অনন্ত এলাকার ফজলুল হকের ছেলে।
স্কুল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো স্কুলের টিফিন শেষে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে যথারীতি ক্লাস শুরু হয়। ক্লাস চলা অবস্থায় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে স্কুলের দ্বিতীয় তলার ৪০৩ নম্বর রুমে পঞ্চম শ্রেণির চলন্ত সিলিং ফ্যানটি হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে শিক্ষার্থী তামজিদের মাথার ওপর খসে পড়ে। এতে তার মাথা ফেটে সে মারাত্মক জখম হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ক্লাসের অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্কুলের শিক্ষকরা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে জরুরি বিভাগে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পাবনা পুলিশ লাইনস স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই আমরা শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। চিকিৎসকের দেওয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধসহ শিশুটির অভিভাবককে জরুরি ভিত্তিতে স্কুলে ডেকে এনে তাঁদের হাতে সন্তানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, শিশুটির আঘাত খুব বেশি গুরুতর নয়। যেহেতু এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা, সে কারণে তামজিদের বাবার কোনো অভিযোগ নেই বলে প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন।
বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে স্কুলের যাবতীয় বৈদ্যুতিক তার ও জিনিসপত্র পরীক্ষা করে থাকি। যেহেতু এখন একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, তাই সুরক্ষার স্বার্থে স্কুলের প্রতিটি কক্ষের সকল ফ্যান পুনরায় নিখুঁতভাবে চেক করা হবে এবং ভেঙে যাওয়া ফ্যানের পরিবর্তে দ্রুত নতুন ফ্যান স্থাপন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ঐতিহ্যবাহী পাবনা পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—উভয় শাখা মিলিয়ে বর্তমানে মোট ১৬০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যাদের ক্লাসরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অন্যতম প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


































