ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 98

চুক্তির মেয়াদ শেষ, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং গ্যাস বিল বকেয়ার জটিলতায় ভোলার ৩৪.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বেড়ে গিয়ে ভোগান্তি আরও তীব্র হয়েছে।

ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় অবস্থিত এই গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে আসছিল। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটি ২০০৯ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। পরে উৎপাদন ক্ষমতা ৩৪.৫ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৪০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালে কেন্দ্রটির প্রধান গ্যাস টারবাইন বিকল হয়ে পড়ে। এরপর ব্যাকআপ ইউনিট দিয়ে সীমিত উৎপাদন চললেও চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি প্রায় ২০ কোটি টাকার গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে পুরো কেন্দ্রটির কার্যক্রম থেমে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর বোরহানউদ্দিন থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূর দিয়ে ভোলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে সরবরাহ লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ঝড়বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। একটি সাব-স্টেশন অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

ভোলা পাওয়ার প্লান্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমান জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ এবং বকেয়া গ্যাস বিলের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও গ্যাস সংযোগ ফিরলে কেন্দ্রটি আবার চালু করা সম্ভব।

ভোলা বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ বলেন, বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে দূরবর্তী স্থান থেকে আনতে হওয়ায় ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ছে।

এদিকে দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দক্ষ জনবল হারানোর পাশাপাশি যন্ত্রপাতির ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়বে।

স্থানীয়রা দ্রুত বকেয়া নিষ্পত্তি, গ্যাস সংযোগ পুনর্বহাল এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভোলার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং

সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

চুক্তির মেয়াদ শেষ, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং গ্যাস বিল বকেয়ার জটিলতায় ভোলার ৩৪.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বেড়ে গিয়ে ভোগান্তি আরও তীব্র হয়েছে।

ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় অবস্থিত এই গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে আসছিল। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটি ২০০৯ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। পরে উৎপাদন ক্ষমতা ৩৪.৫ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৪০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালে কেন্দ্রটির প্রধান গ্যাস টারবাইন বিকল হয়ে পড়ে। এরপর ব্যাকআপ ইউনিট দিয়ে সীমিত উৎপাদন চললেও চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি প্রায় ২০ কোটি টাকার গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে পুরো কেন্দ্রটির কার্যক্রম থেমে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর বোরহানউদ্দিন থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূর দিয়ে ভোলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে সরবরাহ লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ঝড়বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। একটি সাব-স্টেশন অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

ভোলা পাওয়ার প্লান্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমান জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ এবং বকেয়া গ্যাস বিলের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও গ্যাস সংযোগ ফিরলে কেন্দ্রটি আবার চালু করা সম্ভব।

ভোলা বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ বলেন, বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে দূরবর্তী স্থান থেকে আনতে হওয়ায় ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ছে।

এদিকে দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দক্ষ জনবল হারানোর পাশাপাশি যন্ত্রপাতির ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়বে।

স্থানীয়রা দ্রুত বকেয়া নিষ্পত্তি, গ্যাস সংযোগ পুনর্বহাল এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।